পাবনা পৌরসভায় জনবলসহ নানা সংকট
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কাজী বাবলা, পাবনা

দেড়শত বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান পাবনা পৌরসভা জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় এত বছরেও হয়নি একটি নতুন ভবন। পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও পুরোনো ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে কার্যক্রম।
পাবনা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট রয়েছে প্রকট। স্থায়ী কর্মকর্তা, কর্মচারীর পদ আছে ১২৪টি। কিন্তু কর্মরত আছে ৭১ জন, শুন্য আছে ৫৩টি পদ। ২৭ দশমিক ২০ বর্গকিলোমিটার আয়োতনের পৌরসভায় রয়েছে ২২০ কিলোমিটার সড়ক। যেখানে প্রতি কিলোমিটারে ৩ জন করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী থাকার কথা। সে হিসেবে প্রয়োজন ৬৬০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। কিন্তু বর্তমানে আছে মাত্র ১৯৪ জন, আর শুন্য ৪৬৬ জন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ১২০ জনের বিপরীতে কাজ করছে মাত্র ৪৫ জন। শুন্য ৭৫ জন। নতুন করে নিয়োগ না থাকায় এই অল্প সংখ্যক জনবল দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে।
১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা পৌরসভা। এরপর ১৯৮৯ সালে দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভার তালিকায় স্থান পেলেও নগরবাসীর সেবার মান অনেকটাই তলানিতে। নেই কোনো আধুনিক সেবাদানের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা। পুরোনো আর লক্কর ঝক্কর যানবাহনের পাশাপাশি সম্প্রতি প্রায় দেড় কোটি টাকা সমমূল্যের নতুন কয়েকটি যানবাহন সেবার তালিকায় যোগ হয়েছে। সেগুলো রাখার সেডসহ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যত্রতত্র রাখা হচ্ছে গাড়িগুলো। যার ফলে অল্পদিনেই সেগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, যে ভবনে পৌর দাপ্তরিক সেবা দেওয়া হচ্ছে সেটি ২০১২ সালে সরকার কর্তৃক পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। নতুন ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণের জন্য এখন পর্যন্ত কিছুই দেখা যায়নি। যার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই দিতে হচ্ছে সেবা। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে প্রাণঘাতি দুর্ঘটনা।
পাবনা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা পাভেল মৃধা বলেন, সারাবছর ময়লা আবর্জনার ও অপরিষ্কার ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভোগান্তি থাকলেও বর্ষায় তীব্র সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে একটু বৃষ্টি হলেই বেশিরভাগ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরে। এই ভোগান্তি বর্ষা শেষ হওয়ার পরও কয়েকমাস পোহাতে হয়। কিছু কিছু এলাকায় বছরের প্রায় আট মাসই জলাবদ্ধতা থাকে।
পাবনা পৌরসভার দিলালপুর এলাকার বাসিন্দা খন্দকার শহিদুল বাকী টিটু বলেন, শুধু দফায় দফায় পৌরকর বাড়ানোর এবং তা পরিশোধের তাগাদা দেওয়া ছাড়া সময়োপযোগী কোনো পদক্ষেপ নেই। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। সরকারের উচিৎ এ প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে নজর দেওয়া।
পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ফোরকান রেজা বাদশা বিশ্বাস বলেন, পাবনা পৌরসভা নাগরিক হিসেবে আমরা সবচেয়ে বেশি হতভাগা, যাদের দেখার কেউ নেই। দেড়শত বছরের পৌরসভা কিন্তু যুগের পর যুগ চলে গেলেও সেবার মান বাড়েনি। আমরা চাই অবিলম্বে নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করা হোক।
পাবনা বিসিক শিল্পনগরী সমিতির সভাপতি আফজাল হোসেন রাজা বলেন, পৌরসভার প্রতিটি রন্দ্রে রন্দ্রে সমস্যা বিরাজ করছে। সম্মিলিতভাবে এটি সমাধানের পদক্ষেপ নিতে হবে। পৌরসভার সেবার মান উন্নতি হলে তবেই আমরা সুস্থভাবে বসবাস করতে পারবো।
তবে সংকট নিরসন ও সম্ভাবনার কথা জানিয়ে পাবনা পৌরসভার প্রশাসক খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা এরইমধ্যে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সহযোগিতায় প্রবৃদ্ধি প্রকল্পে পৌরসভাকে অন্তর্ভুক্ত করতে সুপারিশ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা ডিপিপি বেসরকারি পরিপত্র হিসেবে গণ্য করেছেন। গত ৭ জুলাই নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পৌরসভায় কর্মরত হরিজন কলোনির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, খুব শিগগিরই এসব আবেদন অনুমোদন পাওয়া যাবে। পাবনা পৌরসভা যেমন প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেয়েছে, সেবার দিক থেকেও এটি প্রথম শ্রেণির হবে বলে তিনি আশা করেন।
