নাগরিকসেবার মান বাড়াতে ফরিদপুর পৌরসভার উদ্যোগ
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর পৌরসভায় নাগরিকত্ব সনদ ও বিভিন্ন ধরনের প্রত্যয়নপত্র পেতে একসময় আবেদনকারীদের ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। নির্বাচিত কাউন্সিল না থাকায় প্রতিটি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হতো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে প্রতিবেদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগত। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তেন সেবাপ্রার্থীরা।
তবে প্রায় চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেন। তিনি পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তাকে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব দেন। এতে বাইরের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে আসে। ফলে আগে যে সনদ বা প্রত্যয়নপত্র পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগত, তা এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১ থেকে ২ দিনের মধ্যেই প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে বলে পৌরসভা সূত্র জানিয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সরকারি যানবাহনের জ্বালানি অপচয় ও চুরির অভিযোগ বন্ধে তিনি প্রতি সপ্তাহে একদিন নিজে উপস্থিত থেকে যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম তদারকি করেন। এছাড়া অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য সেবার মানোন্নয়ন এবং জনগণের অর্থের অপচয় রোধ করা।হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৩৩তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তাঁর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। পরে অস্ট্রেলিয়া সরকারের বৃত্তি নিয়ে কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও পাবলিক পলিসি বিষয়ে ডিস্টিংশনসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রায় ১২ বছরের চাকরি জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে প্রায় আড়াই বছর ঢাকার ধামরাই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই সময়ে অনুষ্ঠিত ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে ৮টিতে সরকারি দলের মনোনীত প্রার্থীরা পরাজিত হলেও তিনি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে সহকর্মীদের মধ্যেও তার সুনাম রয়েছে।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ফরিদপুর পৌর প্রশাসক হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, “পৌরসভা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এখানে এখনও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আমরা ফরিদপুর পৌরসভার সব ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করে এটিকে আরও জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছি।
পৌরসভা সংশ্লিষ্টদের মতে, সেবার গতি বৃদ্ধি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নেওয়া এসব উদ্যোগ ইতোমধ্যে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
