চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট দুর্ভোগ চরমে

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

নগরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। আবাসিক এলাকায় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। একইসঙ্গে শিল্পকারখানা, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজি স্টেশনেও পড়েছে সংকটের প্রভাব। গতকাল রোববার দুপুরে নগরের কদমতলী এলাকার ফোর স্টার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, বাকলিয়ার কর্ণফুলী ফিলিং স্টেশন, মইজ্জারটেক এলাকার শাহ আমানত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড এবং কামাল ব্রাদার্স সিএনজি স্টেশনে গ্যাসচালিত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। চট্টগ্রামজুড়ে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রান্নার গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার দৈনন্দিন খাবার প্রস্তুত করতে পারছে না। নগরের জয়নগরের বাসিন্দা কায়সার উদ্দীন জানান, কয়েকদিন ধরে সকাল থেকেই গ্যাস থাকছে না। রোববার সকাল ৭টায় গ্যাস চলে গেছে। আবার সন্ধ্যার পরও চাপ খুব কম থাকে, রাত ১২টার দিকে টিমটিম করে জ্বলে। জামাল খান এলাকার বাসিন্দা কামরুন্নাহার চৌধুরী জানান, সকালে গ্যাস আসে খুব কম। বাসার সবার জন্য রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস থেকেও নেই। নিরাপত্তার কথা বাদ দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনে এনেছি। আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন ও ষোলশহরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। এদিকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসিক খাতের পাশাপাশি শিল্প ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাসের চাপ কমাতে হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতে। গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। নগরের মইজ্জার টেক এলাকার শাহ আমানত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের সামনে গ্যাস নিতে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছিলেন সিএনজি অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ‘আগে দশ থেকে বিশ মিনিটের মধ্যে গ্যাস পেতাম। কয়েকদিন ধরে গ্যাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আজ সেই কষ্ট দ্বিগুণ বেড়েছে। দুই ঘণ্টা ধরে রোদে দাঁড়িয়ে আছি। কখন গ্যাস পাবো ঠিক নেই। এরমধ্যে ৬ টায় গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দিবে’। কেজিডিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) রফিক খান বলেন, গত ১০ দিন ধরেই সংকট চলছে। তবে ছুটির দিনে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য আরও খারাপ হওয়ায় পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের প্রায় সব এলাকাই সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।