বিনা পারিশ্রমিকে ১ হাজার কবর খুঁড়েছেন শতবর্ষী তারা মিয়া

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সালমা আহমেদ, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের সাতবিলা গ্রামের কৃষক তারা মিয়া (তারু মিয়া হিসেবেই পরিচিত)। প্রতিবেশী ও তারু মিয়ার সন্তানরা জানান, এই বয়সেও এদত অঞ্চলের সবচেয়ে প্রবীণ এই ব্যক্তি কারো মৃত্যু সংবাদ এলেই কবর খুড়তে চলে যান। তারু মিয়ার বর্তমানে ১ ছেলে ২ মেয়ে। স্ত্রী ও আরও এক ছেলে মারা যান ৩ বছর আগে। ছেলে সালাম মিয়া, ছেলের বৌ, মেয়ে ও নাতি নাতনিরা তার খুব খেয়াল রাখে। তারা মিয়া বলেন, মানুষের শেষ ঠিকানা কবর। এই কবরেই একদিন শায়িত হতে হয়। ৩০-৩৫ বছর বয়স থেকে একনিষ্ঠভাবে কবর খুঁড়ার কাজটি ৮০-৮৫ ধরে করছি আমি। তিনি জানান, সাতবিলাসহ ছলিমাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় এক হাজার মানুষের কবর খুঁড়েছি। এর বিনিময়ে তিনি কারও কাছ থেকে নেইনি কোনো অর্থকড়ি। আত্মীয়-স্বজন ও নিজ গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের কারও মৃত্যুর খবর শুনলেই ছুটে যাই কবর খুঁড়তে। এখন অবশ্য শরীর তেমন শায় দেয় না। কারণ আমার বয়স এখন ছয়কুড়ি। তারু মিয়া যোগ করেন , ছোটবেলা থেকে আমি মৃত মানুষের কবর খনন কইরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এটি একটি মানবিক কাজ। একজন ক্ষুদ্র মানুষ হিসেবে ভালো কাজ করতে পারলে শান্তি পাই। তিনি বলেন, নিজের ৭ কানি জমিতে কাজ কইরা আয় রোজগার দিয়া সংসার চালাইছি। আমার একমাত্র ছেলে সালামও কৃষি কাজ করে থাকে। আমি মন থাইক্কা, মানবিকতা থাইকা মানুষের জন্য সারাজীবন খন্দক হিসেবে কবর খননের কাজ করতাছি। যতদিন বাঁইচ্চা থাকমু ততদিন মানুষের মঙ্গলের জন্য মানবিক কাজ কইরাই বাঁচতে চাই। কিন্তু অহন তেমন পারি না। প্রতিবেশী মোহাম্মদ মহসিন মিয়া বলেন, তারু চাচা সহজ-সরল মানুষ। সব সময় হাসিখুশি থাকেন। কবর খনন করাটা তার মহৎ গুণের মধ্যে একটি। ছোটবেলা থেকেই তিনি কবর খোঁড়া শুরু করেন। ছলিমাবাদ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, বহুদিন ধরে দেখছি, তারু চাচা কবর খনন করছেন। কবর খনন করার বিষয়টি মানবিক ও প্রশংসনীয়।