চলনবিলে আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষক

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কাকলী খাতুন, চাটমোহর (পাবনা)

শস্যভান্ডার খ্যাত পাবনার চাটমোহরসহ বৃহত্তম চলনবিলে উচু জমিতে পুরোদমে শুরু হয়েছে রোপা আমন রোপণ। শ্রমিক সংকটের মধ্য দিয়ে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোর থেকে সন্ধা পর্যন্ত চলছে জমি প্রস্তুত ও চারা তুলার কাজ। বৃষ্টি কিছুটা কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেও কৃষক নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাটমোহর উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলে ৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষে প্রায় ৪১৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের বেশি চাষাবাদ রয়েছে।

মথুরাপুর গ্রামের কৃষক আজির উদ্দিন জানান, বগুড়া অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিনি ৩ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-১০৩-এর প্রদর্শনী প্লট করেছেন। এ ছাড়া ব্রি ধান ৮৭, বিনা ধান ২০ জাতের মিলে তিনি ১১ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, উন্নত জাতের ধান থেকে বীজ সংরক্ষণ করে পরবর্তী মৌসুমে বেশি দামে বিক্রি করা যায়। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তা ও উপকরণও পাওয়া যায়।

খতবাড়ি গ্রামের কৃষক আকতার হোসেন বলেন, উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ করছেন। তিনি জানান, ব্রি ধান-৮৭, ৯০, ৯৫, ১০৩ এবং তেজগোল্ড, জনকরাজ, শক্তি, সুরভিসহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের আবাদ করেছেন। এসব জাতের রোগবালাই কম ও ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে রোপা আমন রোপণের কাজে কৃষক ব্যস্ত। কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি লাইন পদ্ধতিতে চাষ, খেতে ডাল পুঁতে পোকা দমন (পার্চিং) এবং পানি সাশ্রয়ী অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং (এবি উডি) পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমনের আবাদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।