সংরক্ষিত বনাঞ্চলের খালে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার উপকূলীয় সংরক্ষিত বনাঞ্চলকে ঘিরে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ, খালে বাঁধ নির্মাণ, জেলেদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং পশু চরানোর নামে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে অবৈধভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দশমিনা উপজেলার চর হায়দার, লাল চর ও আগলা চর এলাকায় প্রায় ২ হাজার ২৯৫ একর সংরক্ষিত বন রয়েছে। উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনাঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বনাঞ্চলের ভেতরের বিভিন্ন খালে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এসব খালে মাছ ধরতে চাইলে জেলেদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে অর্থ আদায় করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু খালেই নয়, বনসংলগ্ন নদীতেও ফাঁদ বা অন্যান্য উপকরণ দিয়ে মাছ ধরার ক্ষেত্রেও অর্থ দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, অর্থ না দিলে মাছ ধরতে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। একই সঙ্গে বনাঞ্চলের নির্দিষ্ট এলাকায় গবাদিপশু চরানোর ক্ষেত্রেও অর্থ নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলেদের অভিযোগ, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের খালে বাঁধ দেওয়ার ফলে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বিচরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে জীবিকার জন্য বন ও নদীনির্ভর জেলেরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহিদুর রহমান মিয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন। পরিবেশবিদদের মতে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার এবং অনিয়ন্ত্রিত মাছ আহরণ চলতে থাকলে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সংরক্ষিত বন শুধু গাছের সমষ্টি নয়; এটি উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং হাজারো মানুষের জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। তাই বনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বনাঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।