যশোর বোর্ডে প্রথম হলো কুষ্টিয়া জেলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমন

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী সামিউল হক সিমন সর্বোচ্চ ১২২২ নম্বর পেয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। আর ১২২১ নম্বর পেয়ে খোকসা জানিপুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে। কুষ্টিয়া জিলা শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন প্রিন্স ও যুখরুফ হাসনাইন ১২২০ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে বলে জানা গেছে। যশোর মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রথম স্থান অধিকারী জিলা স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী সামিউল হক সিমনের বাবা জিল বাংলা সুগার মিলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) রকিবুল হক জানান, বিভিন্ন বোর্ডের তথ্য নিয়ে জানতে পেরেছি আমার ছেলে যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

এব্যাপারে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুন্সী কামরুজ্জামান জানান, আমাদের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি। সেই সাথে জিলা স্কুলেরা আরো ২জন শিক্ষার্থী যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। এদিকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমান জানান, আমি এ ব্যাপারে যশোর বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি কিন্তু সর্বোচ্চ নম্বরের ব্যাপারে বোর্ডের কোন তথ্য সংগ্রহ নেই। তিনি জানান, যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মাহিম সর্বোচ্চ ১২১৯ নম্বর পেয়ে ৪র্থ স্থান লাভ করেছে। খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জেনেছি যে, খুলনা জিলা স্কুলের দুজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১২১৫ নম্বর পেয়েছে। আর যশোর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা সর্বোচ্চ ১২১৬ নম্বর পেয়ে মেয়েদের মধ্যে যশোর বোর্ডের প্রথম স্থান লাভ করেছে। তিনি আরো জানান, আমি কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমনের নম্বর পত্র দেখেছি সে ১২২২ নম্বর তাতে সিমনের নম্বরটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর হবে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) জানান, বোর্ডের মাধ্যমে মেধা তালিকা বাছাই করা সম্ভব হয়নি। তাই মেধা তালিকা নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। গতকাল বুধবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের নিজ ফ্ল্যাটে সিমনের সাথে কথা হলে সিমন মহান সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন, নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে দিয়ে লেখাপড়া করেছি। সময় নষ্ট না করে লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হওয়ার ফলে আজকের এই কাঙ্খিত ফলাফল। সে জানায়, পিতা-মাতার পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকেরা তাকে সহযোগিতা করেছেন। সিরিয়াসনেস না থাকলে ভাল কিছু করা অসম্ভব। তাই আমি লেখাপড়াকে সিরিয়াস হিসেবে নিয়েছিলাম। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি গনিত অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ের পদক অর্জন করেছে। বাসার শোকেচে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পদক ক্রেস্ট দেখা গেল। অবসরে বই পড়ে সময় কাটে সিমনের। সিমনের মা শামীমা আহমেদ জানান, সিমন ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভাল ফলাফল অর্জন করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সে যশোর জেলার প্রথম স্থান অধিকার করে। আমরা দারুণ খুশি। আশা করি পরবর্তীতে আরো ভাল ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে সে আমাদের সম্মানকে সমুজ্জ্বল করবে।