ফার্মেসিতে কাজ করেও জিপিএ-৫, দর্জি বাবার মুখে হাসি ফুটালো প্রান্ত

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

সংসারের অভাব দাবিয়ে রাখতে পারেনি প্রান্তকে। হৃদরোগে আক্রান্ত অসুস্থ বাবার সেলাই মেশিনের সামান্য আয়ে ৪ সদস্যের সংসার চালানো পাশাপাশি প্রান্তের পড়াশোনার খরচের ভার যেনো ক্রমশঃ ভারী হয়ে যাচ্ছিল। সে জন্যই নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাঞ্ছারামপুর’র একটি ফার্মেসিতে কাজ করে প্রান্ত দেবনাথ। সঙ্গে চলছিল পড়াশোনা। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি।

বাঞ্ছারামপুর সরকারি এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান জানান, প্রান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর সরকারি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। তার বাবা পঙ্কজ দেবনাথ পেশায় একজন দর্জির কারিগর। সীমিত আয়ের পরিবারের সন্তান প্রান্ত পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি ওষুধের ফার্মেসিতে কাজ করেন। দিনের একটি বড় সময় কাজের পেছনে ব্যয় হলেও পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহে ভাটা পড়েনি।

ক্লাশে সে খুবই মনোযোগী ছিল। কখনোই সে মোবাইল ব্যবহার করতো না। ফার্মেসির কাজ শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়েও বই নিয়ে বসতেন প্রান্ত। কখনও কাজের ফাঁকে, আবার কখনও গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।

তার সেই পরিশ্রমের ফল এসেছে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে। জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। সবচেয়ে বেশি খুশি প্রান্তের বাবা পঙ্কজ দেবনাথ। ছেলের সাফল্যে তার চোখেমুখে ফুটে উঠেছে গর্ব আর আনন্দের ছাপ। বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রান্ত দেবনাথের অসুস্থ দর্জি পিতা পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, আমার ছেলেটা খুব পরিশ্রমী। সে তার শ্রমের ফলাফল পেয়েছে। আমরা খুব খুশি। মা সুবর্ণা রাণী দেবনাথ বলেন, আমার ছেলেটা খুব সরল। কিন্তু রুটিননুযায়ী নিজের মতো করে পড়তো। পড়ার জন্য চাপ দিতে হতো না। তার ফলাফলে আমি অনেক খুশী। প্রান্তের এই সাফল্য শুধু একটি ভালো ফল নয়, এটি সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন পূরণে লড়াই করে যাওয়ার গল্প। অর্থের অভাব কিংবা কাজের ব্যস্ততা যে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পথ থামিয়ে দিতে পারে না, প্রান্ত দেবনাথ তারই উদাহরণ। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চান প্রান্ত। তার এই সাফল্য বাঞ্ছারামপুরের অনেক শিক্ষার্থীর জন্য হয়ে উঠতে পারে অনুপ্রেরণার গল্প। ফার্মেসীতে কাষ্টমার সামলাতে সামলাতে প্রান্ত- জানায়, ‘প্রাইভেট পড়ার সুযোগ হয়নি। তবে ক্লাশে ও বাড়িতে মূল বই মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। স্যাররা খুবই হেল্পফুল ছিলেন। মা ও বাবা আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। আমি ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চাই’।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রান্তের জীবন সংগ্রামের চলমান সাফল্যের গল্প কিছুটা জেনেছি। তাকে আরও সংগ্রাম করতে হবে। আর এজন্য উপজেলা প্রশাসন তার জন্য সহযোগিতা করবে’।