দক্ষ যুবসমাজ গড়তে প্রশিক্ষণব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হচ্ছে
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সাভার প্রতিনিধি

দেশের বিশাল যুবসমাজকে দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে সরকার প্রশিক্ষণব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, তরুণদের জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে হলে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রচলিত প্রশিক্ষণব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গতকাল শনিবার সাভারের জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে ‘নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। জনগণের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
আমিনুল হক জানান, বর্তমানে ৮৩টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলেও অনুপযোগী ট্রেডগুলো বাদ দিয়ে নতুন প্রজেক্ট গ্রহণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল সার্ভিসিং, কেয়ার গিভিং এবং থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং কোর্সগুলো উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ কোর্স বাড়ানো নয়, প্রশিক্ষণের অবকাঠামোও আধুনিক করা হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যুবকরাও আধুনিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। যুবকদের স্বাবলম্বী করতে সরকার যে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে, তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ঋণের টাকা যেন কোনোভাবেই অনিয়ম বা অপব্যবহারের মাধ্যমে অন্য খাতে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করে যুবকদের উদ্যোক্তা ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সরকারি অর্থ ও সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতার বিষয়ে কঠোর হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না। সময়মতো অফিসে আসার পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষিত যুবকদের সঠিক মূল্যায়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। এই ডাটাবেজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের তথ্য সংরক্ষণ এবং তাদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম। কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
