গ্যাস সংকটে মুন্সীগঞ্জে যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মাসুদ রানা, মুন্সীগঞ্জ
গ্যাস সংকটের অজুহাতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বেতকাণ্ডমোল্লাবাজার রুটে দুই দফায় বেড়েছে সিএনজি ভাড়া। আগে এই রুটে জনপ্রতি ভাড়া ছিল ৬০ টাকা। সম্প্রতি দুই দফায় ২০ টাকা বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ৮০ টাকা। এতে প্রতিদিন এই সড়কে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও অসুস্থ রোগীরা পড়েছেন বাড়তি ভোগান্তিতে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেতকা থেকে মোল্লাবাজার হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য এই সড়কটি টঙ্গীবাড়ী ও আশপাশের এলাকার মানুষের কাছে অন্যতম সহজ ও তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ যাতায়াত করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী রোগী ও স্বজন রয়েছেন। তবে গত কয়েক দিন ধরে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় রুটটির সিএনজি চালকদের অনেকেই গ্যাসের পরিবর্তে তেল ব্যবহার করে যানবাহন চালাচ্ছেন। এতে তাদের জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি চালকদের। সিএনজি চালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা গ্যাস পাই না। গ্যাস স্টেশনে গিয়ে কালকে তিন ঘণ্টা বসে ছিলাম। গ্যাসের সংকটের কারণে এখন তেল দিয়ে গাড়ি চালাইতেছি। তেলের খরচ বেশি হওয়ায় ভাড়া বাড়াতে হয়েছে। অন্যদিকে, যাত্রীদের অভিযোগ, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বাড়লেও এর পুরো চাপ যাত্রীদের ওপর দেওয়া উচিত নয়। হঠাৎ করে ভাড়া ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা হওয়ায় নিয়মিত যাত্রীদের মাসিক যাতায়াত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। পথচারী সাইফুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে সহজে ঢাকায় যাওয়া যায়, তাই প্রতিদিন এই রুটে যাতায়াত করি। কিন্তু এভাবে ভাড়া বাড়ায় আমার মতো নিয়মিত যাত্রীদের জন্য সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। যাতায়াতের খরচ এখন অনেক বেড়ে গেছে। শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা শিক্ষার্থী। প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য সিএনজি ব্যবহার করতে হয়। হঠাৎ করে ভাড়া ২০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনা করে ভাড়া কমানো বা অন্তত সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানাই।
স্থানীয়দের মতে, বেতকাণ্ডমোল্লাবাজার সড়কটি শুধু ঢাকাগামী মানুষের জন্য নয়, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সকালে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী এবং দিনের বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ী ও চিকিৎসাপ্রত্যাশী মানুষের যাতায়াত বেশি থাকে।
যাত্রীদের দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে পরিবহন মালিক ও চালকদের খরচ বেড়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিকভাবে ভাড়া নির্ধারণ করা উচিত। হঠাৎ করে দুই দফায় ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় যাত্রীদের প্রত্যাশা, গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসনের পাশাপাশি বেতকাণ্ডমোল্লাবাজার রুটের সিএনজি ভাড়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় করে একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। এতে চালক ও যাত্রী, উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হবে বলে মনে করছেন তারা। অপরদিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার সড়কগুলোতে ব্যাটারি চালিত অটো ও মিশুকের ভাড়া বেড়েছে । আগে গজারিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত ভাড়া ছিল জনপ্রতি ২০ টাকা এখন তা হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। এ নিয়ে যাত্রী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড থেকে রাফি নামে এক মিশুক যাত্রী তিনি বলেন যে ছিল ভাড়া ২০ টাকা এখন হয়েছে তা ৩০ টাকা যা কোনভাবেই কাম্য নয়। কারণ মিশুক অটো তো গ্যাসে চলেনা এগুলো ব্যাটারিচালিত কিন্তু তারা হঠাৎ করেই গ্যাস সংকট দেখিয়ে চালকরা যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে ।
