কাঠের ব্রিজ ভেঙে দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকায় নদী দিয়ে যাতায়াতের জন্য নির্মিত কাঠের ব্রিজ ভেঙে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। সরেজমিন দেখা যায়, নদীর ওপর দিয়ে যাতায়াতের জন্য নির্মিত কাঠের ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি ব্রিজটির একাংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ওই এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ। বিশেষ করে প্রাণনাথ চর ও আশপাশের এলাকাগুলো মূলত কৃষিনির্ভর। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষকরাও উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো হাট-বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকা কিংবা ব্রিজের অবশিষ্ট অংশ ব্যবহার করে নদী পারাপার করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে একটি নিরাপদ বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি প্রাণনাথ চর এলাকায় একটি স্থায়ী ও টেকসই পাকা সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি পদক্ষেপ নেবে- এমন প্রত্যাশা তাদের। সজিবুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় স্কুলে যেতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। ডিঙি নৌকায় নদী পার হতে ভয় লাগে। দ্রুত ব্রিজটি ঠিক হয়ে গেলে যাতায়াতে আর সমস্যা থাকবে না। স্থানীয় বাসিন্দা জসিম সরকার বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও অসুস্থ মানুষ বেশি সমস্যায় পড়েছেন। তাই বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একটি নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করবে এবং স্থায়ী সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা বলেন, কাঠের তৈরি ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সরেজমিন পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
