কুমিল্লায় নদী ও খাল-বিলে অবৈধ দখলদার বাড়ছে

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নজরুল ইসলাম দুলাল, কুমিল্লা

ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রাচীন জেলা কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার সরকারি অধিকাংশ খাল-বিল ও নদীর পাড় দখলে দূষণে অনেকটা বিলীন হওয়ার পথে। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকার এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে যে যার মতো করে সরকারি এসব খাল-নদী দখলের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। ৭ বছর আগে ২৭৩৪ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা করা হলেও উচ্ছেদ অভিযান এখনও হয়নি।

সরেজমিন জানা গেছে, জেলার ১৭টি উপজেলা এলাকার গ্রামীণ সড়ক এবং হাটবাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালগুলো দখলের মহোৎসব চলছে। দীর্ঘসময় ধরে প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় স্থানীয় অসাধু শ্রেণির রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় একে একে দখল হয়ে যাচ্ছে জেলার গোমতী, ডাকাতিয়া ও কাঁকড়ী নদীসহ খাল-বিলের সরকারি অধিকাংশ সম্পত্তি। প্রভাবশালীরা সরকারি সম্পত্তি দখলে নিয়ে পাকা, আধাপাকা বাড়িঘর ও দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করে এসব স্থাপনায় নিজে কিংবা ভাড়াটিয়া বসিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। এমন প্রেক্ষাপটে ২০১৯ সালে নদী কমিশনের তৎপরতার পর নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। ওইসময় পাউবো ও জেলা প্রশাসন সমন্বয়ে জেলার খাল-বিল ও নদী পাড়ের ২ হাজার ৭৩৪ জন অবৈধ দখলদারের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। সূত্র জানায়, ওই তালিকার মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলায় ৯৩৭ জন, চৌদ্দগ্রামে ১২৫ জন, চান্দিনায় ১৭৩ জন, বরুড়ায় ১৪ জন, বুড়িচংয়ে ৪২৭ জন, নাঙ্গলকোটে ৫৮ জন, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৩৩৫ জন, দেবিদ্বারে ১৫২ জন, দাউদকান্দি ১৩০ জন, লাকসামে ৭৬ জন, তিতাসে ৭ জন, মুরাদনগরে ৯৯ জন ও মনোহরগঞ্জে ২০১ জন অবৈধ দখলদার রয়েছে।

সূত্রের দাবি, এসব এলাকায় বাস্তবে অবৈধ দখলদারের সংখ্যা আরও বেশি হবে। সূত্র জানায়, অবৈধ দখলদারের তালিকা করা হলেও নানা কারণে ওই সময় উচ্ছেদ অভিযান গতি পায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার চৌদ্দগ্রামের কাঁকড়ী নদী এলাকার বাসিন্দারা জানান, অবৈধ স্থাপনা ও বর্জ্যে নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি সরু হয়ে যাচ্ছে নদী ও খাল। এতে নদী ও খালের অধিকাংশই এখন দখলে-দূষণে দুর্গন্ধযুক্ত পানি, আবর্জনা আর কচুরিপানায় ভরে গেছে। জেলার চান্দিনা উপজেলার আওরাল গ্রামের কলেজশিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একসময় খালে ছোট-বড় অনেক নৌকা চলাচল করতো, এসব নৌকায় করে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ধান, পাটসহ নানা কৃষিপণ্য ও মালামাল কম খরচে পরিবহন করতেন। এছাড়া কৃষকরা খাল থেকে ফসলের জমিতে পানি সেচ করতেন, খালে উৎসব করে মাছ ধরতেন। কিন্তু এখন আর এমন দৃশ্য তেমন চোখে পড়ে না। দেবীদ্বার উপজেলার খলিলপুর গ্রামের খোরশেদ আলম বলেন, গ্রামীণ এলাকার প্রবাহমান খালগুলোর অধিকাংশই দখলদারদের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বাজার কিংবা জনবহুল এলাকায় খালের পাড় দখল করে কাঠ-বাঁশ কিংবা রড-সিমেন্টের পিলার দিয়ে খালের ওপর গড়ে তুলেছে দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা। দখলদারদের কবলে পড়ে ধীরে ধীরে সরু হয়ে অনেক এলাকায় এখন খালের চিহ্নও বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

এতে গ্রামীণ ঐতিহ্য ম্লাণ হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগও বেড়েছে।

পাউবো কুমিল্লার পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, বিগত সময়ে জেলার গোমতী, ডাকাতিয়া ও কাঁকড়ী নদীসহ বিভিন্ন স্থানে খাল-বিলের সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলকারী ২ হাজার ৭৩৪ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। এসব দখলদারদের উচ্ছেদে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অবৈধ দখলদাররা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।