দামুড়হুদায় বিষপ্রয়োগে পাখি হত্যায় মামলা
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে ২৯টি বন্য পাখি হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গত বুধবার এ মামলা করে বন বিভাগ। মৃত পাখির মধ্যে ২৪টি তিলা ঘুঘু, তিনটি চড়–ই ও দুটি কবুতর রয়েছে। বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ফসলি জমিতে পাখি শিকারের উদ্দেশ্যে বীজে বিষ মিশিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই বিষ খেয়ে পাখিগুলো মারা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি উদঘাটন করেন কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের দামুড়হুদা এসএফপিপির আওতাধীন এলাকার ফরেস্টার সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। পরে ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দামুড়হুদার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলমের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আতিয়ার রহমান (৫৫) ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে সেখানে তার ছেলে মো. রাজনকে পাওয়া যায়। উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে রাজন ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজন ও তার বাবা আতিয়ার রহমান পাখি নিধনের কাজে সহযোগিতা করেছেন বলে স্বীকার করেন। পরে রাজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিষ প্রয়োগে ব্যবহৃত উপকরণ ও মৃত পাখি পাওয়া যায়। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের আলামত ও জব্দ তালিকা প্রস্তুত করেন এবং উপস্থিত সাক্ষীদের সই নেন।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বন্যপ্রাণী শিকার ও হত্যার অভিযোগে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ৩৮(১)/৪২ ধারাসহ প্রযোজ্য আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগের হিসাবে নিহত পাখিগুলোর আনুমানিক আর্থিক মূল্য ৫ হাজার ২১০ টাকা এবং পরিবেশগত ক্ষতি ২ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলার নথিতে ফরেস্টার সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী, মো. শাহজামান রিপণ ও মো. মাসুদ রানাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী বলেন, বিষ প্রয়োগ করে ২৯টি পাখি হত্যার ঘটনায় মামলা করেছে বন বিভাগ। ভবিষ্যতেও বন্য পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী রক্ষায় বিষ প্রয়োগ ও অবৈধ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
