কলকাতায় হোটেলে আগুন, লাশের অপেক্ষায় সাতক্ষীরার দুই পরিবার

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশীর মধ্যে দুইজন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বহেরা গ্রামের আলিমুজ্জামান সাজু এবং তারালী গ্রামের রেবতী সরকার। গত বুধবার রাতে তাদের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের নিজ নিজ এলাকায় চলছে শোকের মাতম। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিহতেদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। তাদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি স্বজনদের।

স্বজনরা জানিয়েছেন, ভারতের কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত আলিমুজ্জামান সাজু ও রেবতী সরকার দুজনই সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। নিহত আলিমুজ্জামান সাজু বরেয়া গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহত রেবতী সরকার তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী। চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ওই হোটেলে অবস্থানকালে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তিনিও নিহত হয়েছেন। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে তারা দুইজন পৃথক ভাবে ভারতে গিয়েছিলেন।

তেঁতুলিয়া গ্রামের তপন সরকার বলেন, রেবতী আমার বৌদি। বুধবার রাতে বৌদির ছেলের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে একটি হোটেলে আগুন লেগে বৌদি মারা গেছেন। দাদা বাংলাদেশে ছিলেন, তবে এখন তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

এদিকে নিহত সাজুর নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরে ব্যাথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে সপ্তাহ খানেক আগে সাজু ভারতে যায়। বুধবার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১০টার দিকে বাড়িতে খবর আসে হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে তিনি নিহত হয়েছেন।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার দুই পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়া কলকাতায় বাংলাদেশ যে হাইকমিশন আছে তারা লাশগুলোর ব্যাপারে এরইমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারা লাশগুলো বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবেন।