ছোট ফেনী নদীর ভাঙনের মুখে ফসলি জমি-স্থাপনা
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বাহার উল্লাহ বাহার, সোনাগাজী (ফেনী)

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ছোট ফেনী নদীর পাড়ের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে বিভীষিকাময় সময়। প্রতিদিন ভাঙছে নদীর পাড়, বিলীন হচ্ছে, ঘরবাড়ি, মসজিদ, দোকান, কৃষি জমিসহ জীবনের সবকিছু।
অথচ এসব মানুষের দীর্ঘশ্বাস, কান্না, আর্তনাদ যেন কেউ শুনছে না। ২৪ এর বন্যার পানির প্রভাবে মুছাপুর রেগুলেটর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর থেকে ছোট ফেনী নদীর দুপাশে অস্বাভাবিক জোয়ারে ভাঙন দেখা দেয়। চর মজলিশপুর, বগাদানা, চরদরবেশ, চর চান্দিয়া চর পারবতি, চর হাজারী ও মুছাপুর ইউনিয়নের নদীর পাড়ের অংশে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদী পাড়ের বসবাসরত ২০ হাজারের অধিক পরিবার। শতশত পরিবারের সহায়সম্পদ এরইমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং হুমকির মুখে রয়েছে ছোট ফেনী নদী সেতু, কাজীরহাট ব্রিজসহ একাধিক স্থাপনা। স্থানীয় বাসিন্দারা এই সমস্যার দ্রুত সমাধানে বন, জলবায়ু ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। চরমজলিশপুর এলাকার জামাল উদ্দিন বলেন, নদীর তীরেই আমার বাড়ি। নামাজ পড়ে নদীর কাছে আসলাম জোয়ারের কী অবস্থা দেখতে! গতকাল দুপুর খাওয়ার পূর্ব মহূর্তে যেভাবে জোয়ার এসেছে খাওয়ার খেতে পারি নাই।
আজও এমন হয় কিনা ভয়ে দেখতে আসলাম। মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ করা সময়ের দাবি। অন্তত মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণের আগে যদি বাঁকা নদী সোজাও করে দেয় তাহলে অন্তত কিছুটা হলেও রক্ষা পেতাম। কে শুনে আমাদের কথা! না শুনছে, সমাজ, রাষ্ট্র-সরকার।
আবদুল কাইয়ুম বলেন, মুছাপুর ক্লোজারের পুনঃনির্মাণ দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকায় ছোট ফেনী নদীর উপকূলে বসবাসরত হাজারো মানুষ আজ ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই নদীভাঙনের মুখে পড়ছে তাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। নদীর ধারে বসবাসরত গরিব কৃষকদের বহু জমি এরইমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা সব হারিয়ে জীবিকা নির্বাহে চরম সংকটে পড়েছেন।
চর চান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন খোকন বলেন, প্রতিনিয়ত ভাঙনে সোনাগাজী মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অতিদ্রুত মুছাপুর ক্লোজারের পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু এবং উপকূলীয় এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সংসদ সদস্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বন, জলবায়ু ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই।
উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর পুনঃনির্মাণ নিয়ে স্পেসিফিক কোনো তথ্য আমার জানা নেই।
এটি নিয়ে ঊর্ধ্বতনরা ভালো বলতে পারে। ভাঙন রোধে কিছু জুরুরি স্পট চিহ্নিত করেছি। এগুলোতে এডিবির অর্থায়নে কিছু কাজ চলমান।
