দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এইডস্ সংক্রমণ ঝুঁকি

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মরণব্যাধি এইডস সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর প্রায় দেড় হাজার নারী। গত পাঁচ বছরে সেখানে এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ছয় জন। এর মধ্যে চার জন নারী যৌনকর্মী, অপর দুই জন ওই পল্লীর পুরুষ খদ্দের। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রোগসংক্রমণে প্রয়োজনীয় আচরণগত নানা কারণ স্পষ্ট বিদ্যমান থাকায় দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর সব যৌনকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট খদ্দেররা সহজেই এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত হতে পারেন। এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এসটিআই, এইচআইভি এবং এইডস প্রতিরোধে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীসহ আশপাশের এলাকায় নিয়মিত নানা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল দৌলতদিয়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পায়াক্ট বাংলাদেশ। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় গত পাঁচ মাস যাবত সেখানে এসটিআই, এইচআইভি এবং এইডস প্রতিরোধে ওই দুই সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে।

জানা যায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া রেলস্টেশনের পাশে অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লী। সেখানে প্রায় দেড় হাজার নারী যৌনকর্মীর বসবাস। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো পুরুষ খদ্দের আসেন ওই পল্লীতে। এর মধ্যে স্কুলছাত্র থেকে শুরু করে দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ট্রাকচালকসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ রয়েছে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, যেসব আচরণের ফলে এইচআইভি এইডস সংক্রমিত হয়, তার সবগুলোই দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিদ্যমান। অবাধ যৌন মেলামেশার কারণে ওই পল্লীর সব যৌনকর্মী নারী ও তাদের কাছে আসা পুরুষ খদ্দেররা সহজেই মরণব্যাধি এইডসসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই দৌলতদিয়া যৌনপল্লীকে এইচআইভি এবং এইডস সংক্রমণে মারাত্মক ঝুঁকির্পূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য বিভাগের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এইচআইভি, এইডস প্রতিরোধে কাজ করছিল ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ ও ‘পায়াকট্ বাংলাদেশ’।