শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যা, মেয়ের জামাই আটক
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মেয়ের জামাইয়ের কুড়ালের আঘাতে শাশুড়ি নিহত হয়েছেন। নিহত সাহারা খাতুন (৫৮) উপজেলার চন্ডীগড় ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামের আব্দুল মোতালিবের স্ত্রী। এ সময় অভিযুক্ত শাহেদ বিশ্বাস ওরফে রফিকুল ইসলামকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার চন্ডীগড় ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শাহেদ বিশ্বাস ওরফে রফিকুল ইসলাম উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের কনুয়া গ্রামের আবুল কাশেম এর ছেলে। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১০-১২ বছর আগে উপজেলার কনুয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে শাহেদ বিশ্বাসের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সাহারা খাতুনের মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শাহেদ তার স্ত্রী কে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। এরমধ্যে সাহারা খাতুনের স্বামী আব্দুল মুতালিব ২০০শতক ফসলি জমি মেয়ের জামাইকে রেজিস্ট্রি করে দেন। কয়েক বছর আগে মেয়ে মারা যায়। কিন্তু শাহেদ বিশ্বাস সাহারা শ্বশুরবাড়িতেই থেকে যান। এর মধ্যে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ে করার পরও তার প্রথম শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করে আসছেন শাহেদ। গত কিছুদিন ধরে শাহেদ ও প্রথম পক্ষের শশুর-শাশুড়ির সাথে জমি নিয়ে কলহ শুরু হয়। শাহেদ কে দেওয়া জমি তার দখলে নেওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার শালীস বৈঠকে হয়।
সবশেষে স্থানীয় লোকজন শাহেদকে জমিটি দখল দেওয়ার জন্য আব্দুল মোতালেব ও সাহারা খাতুন দম্পতিকে রাজি করান। চলতি মৌসুমে তাকে জমিটি আবাদ করার জন্য দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে শনিবার রাত আটটার দিকে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে শাহেদ তার শাশুড়িকে কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। পরে স্থানীয় লোকজন শাহেদ বিশ্বাস কে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে শাহেদকে তাদের হেফাজতে নেন এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করেন।
চন্ডীগড় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খোকন মিয়া জানান, পারিবারিক কলহ থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।
ঘটনার পরপরই ঘাতক জামাইকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। দুর্গাপুর থানার ওসি শাকের আহমেদ বলেন, জামাইয়ের আঘাতের শাশুড়ি খুন হওয়ার বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
