অক্সিজেন সংকটে সোনামুখো বিলে মাছ চাষে নিঃস্ব দুই উদ্যোক্তা
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বেনাপোল প্রতিনিধি

যশোরের শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর সোনামুখো বিলের সজনের ঘেরে গত শনিবার রাত ১টার সময় ভয়াবহ মাছের মড়ক দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানিতে অক্সিজেনের অভাবে পাবদা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়।
খামার মালিকদের দাবি, এতে তাদের প্রায় ১৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ এফ মৎস্য খামার যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। আকস্মিক এ বিপর্যয়ে তারা এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। খামার মালিকদের দাবি, মাছ চাষের জন্য বাজারের বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার খাদ্য বাকিতে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ব্যাংক লোন নিয়েছে মাছ মারা যাওয়ায় সেই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দিশেহারা তারা।
ঘের ব্যবসায়ী ফারুক ও আলফাজুল হক জানান, ঘেরে বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল। এসব মাছের একটি বড় অংশ বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রাত থেকে ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা আরও কমে গেলে মাছ মারা যেতে শুরু করে। আমরা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছি। হয়তো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। আমাদের এই খামারের ওপর প্রায় একশ পরিবার নির্ভরশীল।
স্থানীয়রা জানান, এ খামারে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি অংশ রপ্তানি চেইনের মাধ্যমে ভারতে যায়। ফলে এ ধরনের মাছ চাষ শুধু স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণই করে না, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি খামারটির আয়-রোজগারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় একশ পরিবার জড়িত।
খামার মালিকদের অভিযোগ, রাত থেকে এখন পর্যন্ত শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ বিভাগ কিংবা থানা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে তাদের খোঁজখবর নেননি। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বেনাপোল সাব জোনাল অফিসের কর্মকর্তা বলেন, সারাদেশে বাংলাদেশে লোড শেডিং চলছে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায়, জাতীয় গ্রিডে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
