এক টানে ধরা পড়ল ১০০ মণ ইলিশ, ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলারে একসঙ্গে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে ট্রলারটি আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে এলে জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। পরে আলীপুরের সিফাত ফিসে দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে এসব ইলিশ প্রায় ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বাদশা মাঝির নেতৃত্বে ১৮ জন জেলেকে নিয়ে ‘এফবি আব্দুল্লাহ’ ট্রলারটি গভীর সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর থেকে যাত্রা করে। মাছ ধরার জন্য ট্রলারে প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী নেওয়া হয়। প্রায় দুই দিন সাগরে অবস্থানের পর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পায়রা বন্দরের শেষ বয়া-সংলগ্ন এলাকায় জেলেদের জালে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। গত বুধবার বিকালে ইলিশ নিয়ে ট্রলারটি আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসে। সেখানে সিফাত ফিসে নিলামের মাধ্যমে ইলিশগুলো প্রায় ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। ট্রলারটির মাঝি বাদশা মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে তেমন ইলিশের দেখা পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ করে পশ্চিমের বয়া এলাকায় জাল ফেললে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ ধরা পড়ে। তবে মাছগুলো তুলনামূলক ছোট। এসব ইলিশ প্রায় ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। এক দিন আগে ১৫ জন জেলে নিয়ে দেড় লাখ টাকার বাজার-সদাইসহ সাগরে গিয়েছিলাম। এক দিন মাছ ধরার পর ইলিশ নিয়ে আলীপুরে ফিরে এসেছি। সিফাত ফিসের মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে আমাদের ঘাটে একটি ট্রলার ৯০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ নিয়ে আসে। দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে আনন্দের সঙ্গে ইলিশগুলো বিক্রি করেছি। প্রায় ৩০ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি হয়েছে। এভাবে নিয়মিত ইলিশ পাওয়া গেলে মৎস্য ব্যবসায়ীদের আগের ঋণ কিছুটা হলেও পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এতে মৎস্য ব্যবসায় আরও গতি ফিরবে। কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরে বেশ কিছুদিন ইলিশের সংকট ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টি হলে ইলিশের আহরণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ ইলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন। আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। প্রতিদিন এ বন্দরে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের বেচাকেনা হয়। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় স্থানীয় জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ইলিশের এমন প্রাচুর্য অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে মৎস্য ব্যবসায় আরও গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
