ওষুধ শিল্পের চাহিদা মেটাচ্ছে সিরাজগঞ্জের হাড়ের গুঁড়া
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এস,এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

যমুনা নদীর তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া গ্রামে স্থাপিত যমুনা বোন মিলে উৎপাদিত গরুর হাড়ের গুঁড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ওষুধ কোম্পানিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ গুড়ো দিয়ে ওষুধ শিল্পে ক্যাপসুল তৈরির খোলস (কভার) তৈরি হয়। এছাড়া গবাদি পশু ও মুরগির খাবার তৈরি হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ যুগ আগে উল্লেখিত এলাকায় এ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়। এ মিলে নারী পুরুষসহ প্রায় ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন এবং কুড়ানো গরুর হাড় কিনে এ মিলে হাঁড়ের গুঁড়ো তৈরি করা হয়। এ গুঁড়ো ডিলারের মাধ্যমে বিক্রিসহ বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে সরবরাহ করে আসছে। অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী গুঁড়া সরবরাহ করতেও হিমশিম খেতে হয়। এ কুড়ানো হাড় এখন তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে হাড়ের গুঁড় উৎপাদনে কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জসহ পাবনা, নাটোর, বগুড়া ও টাঙ্গাইল জেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত গরুর হাড় প্রতি কেজি ১৭-১৮ টাকা দরে কেনা হয়। এ হাড় বিশেষ ব্যবস্থায় শুকানোর পর ওই মিলে গুঁড়া উৎপাদন করা হয়।
এ গুড়া ২৪-২৫ টাকা কেজিতে ওইসব প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়।
তবে প্রতি মাসে প্রায় ২ ট্রাক হাড়ের গুঁড়া খুলনার ডিলারের কাছে সরবরাহ করা হয়। এতে বিভিন্ন ওষুধ শিল্পের অনেকটাই চাহিদা মিটছে। এ মিলে কর্মরত নারী শ্রমিক আছের উদ্দিনসহ অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আসছি। দৈনিক প্রায় ৪০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছি এবং এ মজুরি দিয়ে আমাদের সংসার চলে কোনরকম। হাড় সংগ্রহকারী মফিজুলসহ অনেকেই বলেন, আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে গরুর হাড় সংগ্রহ করছি এবং এ সংগৃহিত হাড় যমুনা বোন মিলে ১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ কেজি হাড় সংগ্রহ হয়ে থাকে। এ সংগৃহিত হাড় বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করছি। বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের দাম বেশি রয়েছে। এজন্য মাংস ব্যবসায়ীরা আগের মতো হাড় ফেলে দেয় না। তারা এ হাড়ও বিশেষ কৌশলে মাংসের সঙ্গে বিক্রি করে। এ কারণে মাঠ ঘাটে আর গরুর হাড় পড়ে থাকে না। এতে হাড় সংগ্রহ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে মিল মালিক হাফিজুল শেখ বলেন, এ হাড়ের গুঁড়ো থেকে বিভিন্ন ওষুধ শিল্পে ক্যাপসুল তৈরির খোলস (কভার) তৈরি হয়। এছাড়া গবাদি পশু ও মুরগির খাবারও তৈরী হয়ে থাকে তবে বর্তমানে হাড়ি সংকটে হাড়ের গুড়া উৎপাদন কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
