প্রধান শিক্ষক নেই ফেনীর ৩২৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শাহজালাল ভূঞা, ফেনী

ফেনী জেলায় ৫৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২৮টিতে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে স্থায়ী নিয়োগ বা পদায়ন না হওয়ায় জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সংকটে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক সঙ্গে পাঠদান ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার মানও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোনাগাজী ও ফেনী সদরে প্রধান শিক্ষক পদ সবচেয়ে বেশি শূন্য রয়েছে। সোনাগাজী উপজেলার ১১০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৫টিতে এবং ফেনী সদর উপজেলার ১৫১টির মধ্যে ৭৬টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। এ ছাড়া ফুলগাজী উপজেলার ৬৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৫টি, ছাগলনাইয়া উপজেলার ৭৮টির মধ্যে ৩৯টি, দাগনভূঞা উপজেলার ১০২টির মধ্যে ৫৯টি এবং পরশুরাম উপজেলার ৫১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪টিতে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এতে করে জেলার অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের শিক্ষকরা বলেছেন, বছরের পর বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। একজন সহকারী শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় তাকে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও করতে হচ্ছে। এতে তার নির্ধারিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অন্য শিক্ষকদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ফেনী সদর উপজেলার কসবা ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত একজন সহকারী শিক্ষিকা জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে ছয়টি পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। একজন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পাঠদান কার্যক্রম পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজে ব্যাস্ত থাকেন।অফিসিয়াল কাজে বিদ্যালয়ের বাইরে গেল, দুইজন শিক্ষক পাঠদান কার্যক্রম চালাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। একইভাবে উত্তর শিবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ছয়টি পদের মধ্যে তিনটি পদ শূন্য রয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দাগনভূঞায় কর্মরত কামাল উদ্দিন বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকেই প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করায় বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ফেনী সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান পদোন্নতিসহ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নানা সমস্যার মুখে পড়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহি উদ্দিন খোন্দকার বলেন, মামলার কারণে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। সরকারের উদ্যোগে এসব মামলা নিষ্পত্তি করে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করা প্রয়োজন।

ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হৃষীকেশ শীল বলেন, জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিন একটি মামলা চলমান থাকায় প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে তিনি জানান। শিগগিরই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও জানান, জেলার শূন্য পদের তালিকা ও সার্বিক পরিস্থিতি এরইমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন তিনি।