সন্তান বিক্রি করে আইফোন কেনার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রি বাবার বিরুদ্ধে| এ ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ| গত শনিবার সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে| অভিযুক্ত মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে| তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি| তার দেড় বছরের শিশুপুত্রের নাম মুসা|
স্থানীয় সূত্র ও শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মাকে বলেন, নাতি মুসাকে সাজিয়ে দিতে| তিনি শিশুটিকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন| এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও মারুফ ও শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি| পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন| একপর্যায়ে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার সথে যোগাযোগ করা হয়| তাকে ফোন করে ঢাকায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে শিশুটির বিষয়ে কিছু স্বীকার করেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়| পরিবারের ভাষ্য পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারুফ স্বীকার করেন, আইফোন কেনার জন্য তিনি তার শিশুপুত্র মুসাকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে বিক্রি করেছেন| শিশুটিকে বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে তিনি ঢাকায় গিয়ে একটি পুরোনো আইফোন দিয়ে নতুন আইফোন কেনেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে| এবিষয়ে শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন| প্রায় তিন বছর পর তাদের ঘরে মুসার জন্ম হয়| প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারুফ ও তার স্ত্রী বৃষ্টির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান| এরপর মারুফ কিছুদিন বাড়িতে থাকার পর ঢাকায় চলে যান| গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন| তিনি আরও বলেন, শনিবার সকালে মারুফ আমাকে বলে, মা, তোমার নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দাও| আমি ওকে নিয়ে বাজারে একটু ঘুরতে যাব| পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছেলে ও নাতির কোনো খোঁজ পাইনি| খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারি, আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুসাকে বিক্রি করেছে বলে মারুফ স্বীকার করেছে| আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই এবং প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি| এদিকে, শিশুটিকে কেনার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন মুঠোফোনে জানান, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ছেলেকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন| তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে, কোনো ছেলে সন্তান নেই্তএ কারণে তিনি মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে লিখিতভাবে নিয়েছেন বলে দাবি করেন|
