খানাখন্দে বেহাল সড়ক চলাচলে দুর্ভোগ

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ওসমান গনি, চান্দিনা (কুমিল্লা)

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সড়ক নয়, যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদ। গ্রামীণ মেঠোপথ থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সংযোগ সড়ক, সবখানেই খাদ, খানাখন্দ আর জমে থাকা পচা কাদা-পানি। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষকে এই অবর্ণনীয় ভোগান্তি মাথায় নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কোথাও খানাখন্দে সিএনজি উল্টে রোগী বা সাধারণ যাত্রী আহত হচ্ছেন, আবার কোথাও কোমর সমান কাদায় আটকে পড়ে অচল হয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাহন। উপজেলাজুড়ে যোগাযোগের এই করুণ দশা এখন চান্দিনাবাসীর প্রতিদিনের নিত্যসঙ্গী।

উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ সড়কে দীর্ঘদিন পর সংস্কার কাজ শুরু হলেও স্বস্তির বদলে তা বাড়তি অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি এবং ধীরগতির কারণে মাসের পর মাস রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। ইট, বালি আর সুরকি ফেলে রেখে কাজ আটকে রাখার ফলে ধুলোবালি ও বর্ষার কাদায় চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। কোথাও কাজ শুরু হয়েও আবার বন্ধ হয়ে গেছে রহস্যজনক কারণে। ফলে যে সংস্কার কাজ মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার কথা ছিল, ঠিকাদারের ঢিমেতাল অগ্রগতির কারণে তা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে চান্দিনার স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব আতিকুল আলম শাওন ঠিকাদারের সাথে আলাপ করে দ্রুত কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন সবচেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখা দিয়েছে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাগুলোতে। বৃষ্টির মৌসুমে এসব মেঠোপথ একদম চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। কাদায় পুরো পথ একাকার হয়ে থাকায় পায়ে হেঁটে চলার মতো উপায়ও অবশিষ্ট থাকে না। এর সরাসরি শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। চান্দিনার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল ও মাদ্রাসাগামী হাজার হাজার ছেলেমেয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব পথ পাড়ি দিচ্ছে। বর্ষায় পোশাক নষ্ট হয়ে যাওয়া বা কাদায় পিছলে পড়ে বই-খাতা ভিজিয়ে ফেলা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বাধ্য হয়ে অনেক অভিভাবক বর্ষার দিনে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোই বন্ধ করে দিচ্ছেন, যা এই অঞ্চলের শিক্ষা কার্যক্রমে মারাত্মক ঋণাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই চরম দুরবস্থার মাঝে নতুন করে যোগ হয়েছে অপরিকল্পিত মৎস্য চাষের থাবা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যস্ততম পাকা রাস্তার একদম পাশ ঘেঁষে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একের পর এক বিশালাকার মাছের প্রজেক্ট গড়ে তোলা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না রেখে এবং সড়কের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পাইলিং বা গাইডওয়াল না দিয়েই পুকুর ও দিঘি খনন করা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই সেই প্রজেক্টের পানির চাপে ও তরঙ্গের আঘাতে পাকা সড়কের নিচ থেকে মাটি ধসে পড়ছে। একটু একটু করে পাকা রাস্তার ধারের মাটি ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মৎস্য প্রজেক্টের পেটে। অনেক জায়গায় পিচের সড়ক এতই সরু হয়ে পড়েছে যে দুটি গাড়ি সামনাসামনি পার হওয়া তো দূরের কথা, একটি ছোট যানবাহন চলাচলেও উল্টে পড়ার চরম আতঙ্ক কাজ করে।

কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে জরুরি চিকিৎসা সেবা, সবক্ষেত্রেই স্থবিরতা নেমে এসেছে চান্দিনায়। রাতে বা দিনে জরুরি কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এখন এক লটারির খেলা। রোগী নিয়ে যাওয়ার আগেই সড়কের ঝাঁকুনিতে তাদের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত পণ্য সঠিক সময়ে বাজারে তুলতে পারছেন না, গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ। এলাকার মানুষের একটাই আকুতি,অবিলম্বে ধীরগতির ঠিকাদারদের দ্রুত কাজ শেষ করতে বাধ্য করা হোক, নিয়মবহির্ভূতভাবে রাস্তার পাশে মৎস্য প্রজেক্ট গড়ে তুলে সড়ক ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং গ্রামীণ পথগুলোকে চলাচলের উপযোগী করে চান্দিনাবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।