রায়পুরে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রায়পুর (লক্ষ্ণীপুর) প্রতিনিধি
বেকারত্বকে দক্ষতায়, আর দক্ষতাকে আয়ে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে লক্ষ্ণীপুরের রায়পুরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একসথে ২৫০ জন তরুণ-তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও গ্রাফিক ডিজাইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের দাবি, দেশের মধ্যে রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এত সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীকে একসথে এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এ উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাওছার। তাঁর পরিকল্পনা ও উদ্যোগে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের অনলাইনভিত্তিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার রায়পুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্ণীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান। সভাপতিত্ব করেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাওছার। এর আগে এ কার্যক্রমের আওতায় ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্রও বিতরণ করা হয়। নতুন করে আরও ২৫০ জন যুক্ত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০ জনে। প্রশিক্ষণার্থী তিন্নি আক্তার বলেন, এই প্রশিক্ষণ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি এবং বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয়ও করছি। এরই মধ্যে লোকাল মার্কেট থেকে বিভিন্ন কাজ করে ৭ হাজার ১৬৬ টাকা আয় করেছি। প্রশিক্ষণটি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
এখন আমি আরও দক্ষতা অর্জন করে নিয়মিতভাবে অনলাইনে কাজ করতে চাই। নিজের পাশাপাশি পরিবারেরও সহযোগিতা করতে চাই।
আরেক প্রশিক্ষণার্থী জয়া নাথ বলেন, আগে অনলাইনে কাজ করার বিষয়ে আমার তেমন ধারণা ছিল না। প্রশিক্ষণে এসে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছি। এখন বুঝতে পারছি, দক্ষতা থাকলে ঘরে বসেও নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব।
প্রশিক্ষণার্থী ইয়াসিন মুন্সী বলেন, একজন তরুণ হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ছিল। এই প্রশিক্ষণ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য ঘরে বসে কাজ করে আয় করার যে সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে নিজেকে একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। লক্ষ্ণীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। আমাদের তরুণদের যদি প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে তারা শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে। রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী।একসঙ্গে ২৫০ জন তরুণ-তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতার প্রশিক্ষণের আওতায় আনা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমরা চাই, প্রশিক্ষণ শেষে তারা বাস্তবে কাজের সথে যুক্ত হয়ে আয় করুন এবং নিজেদের পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখুন।
