বিষাক্ত আগাছার বিস্তার হুমকিতে কৃষিজমি
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিষাক্ত পার্থেনিয়াম আগাছার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষিজমি, রাস্তার ধারের খালি জায়গা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এবং পতিত জমিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এ আগাছা কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
উপজেলার ইউসুফপুর, নিমপাড়া, সরদহ, শলুয়া, ভায়ালক্ষ্ণীপুর ও চারঘাট সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ও ফসলি জমির আশপাশে ব্যাপক হারে জন্ম নিয়েছে পার্থেনিয়াম আগাছা গাছ। অনেক স্থানে আগাছাটি ফুল ও বীজ ধারণ করেছে, যা বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পার্থেনিয়াম আগাছা জমির পুষ্টি উপাদান শোষণ করে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করছে। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি আগাছা দমনে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে কৃষকদের। ইউসুফপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, কয়েক বছর আগেও এ আগাছা খুব একটা দেখা যেত না। এখন রাস্তার পাশ থেকে শুরু করে জমির আইল ও ফসলি জমিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।
নিমপাড়া গ্রামের কৃষক আলীম উদ্দিন বলেন, পার্থেনিয়াম খুব দ্রুত বাড়ে। পরিষ্কার করার কিছুদিন পরই আবার জন্ম নেয়। এটি দমন করতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থেনিয়াম বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিকর আগাছাগুলোর একটি। এর ফুলের রেণু মানুষের শরীরে অ্যালার্জি, ত্বকের চুলকানি, শ্বাসকষ্ট ও চোখের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে এটি গবাদিপশুর জন্যও ক্ষতিকর। আগাছাটি মাটির স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে এবং অন্যান্য উদ্ভিদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে।
এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, পার্থেনিয়াম আগাছা একটি আক্রমণাত্মক প্রজাতি। এটি দ্রুত বিস্তার লাভ করে কৃষি উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কৃষকদের আগাছাটি ফুল ও বীজ হওয়ার আগেই উপড়ে ফেলতে হবে অথবা নিরাপদ উপায়ে ধ্বংস করতে হবে। কৃষি বিভাগ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছে। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে চারঘাটের কৃষিজমিতে পার্থেনিয়ামের বিস্তার আরও বাড়বে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
