কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক কসাইখানার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত বুধবার শহরের অদূরে লাহিনী বটতলার জিকে ক্যানেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়। উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন এই কসাইখানায় প্রথম পর্যায়ে মেশিনের পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতিতেও গবাদিপশুর মাংস প্রস্তুত করা হচ্ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় দুই মাস আগে কসাইখানাটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।
পরে স্থাপনাটি পরিচালনার দায়িত্ব কুষ্টিয়া পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসেন মন্ডল বলেন, প্রথমে ইসলামি রীতি অনুযায়ী সনাতন পদ্ধতিতে গবাদিপশু জবাই করা হবে। এরপর মাংস প্রস্তুতের বাকি কার্যক্রম মেশিনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক কসাইখানাটি চালুর ফলে যত্রতত্র পশু জবাইয়ের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ কমবে।
পাশাপাশি মাংস ব্যবসায়ীদের শ্রম ও সময় সাশ্রয় হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এর মাধ্যমে ভোক্তারা স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পাবেন এবং শহরের মাংস সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন হবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আধুনিক এই কসাইখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই হওয়ায় পরিবেশ দূষণ কমার পাশাপাশি রোগাক্রান্ত পশু জবাই বন্ধ করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াজাত মাংস সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে জবাই করা পশুর চামড়াও তুলনামূলক নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। তবে আধুনিক কসাইখানায় পশু জবাই ও হালাল মাংস প্রস্তুতের পদ্ধতি নিয়ে সচেতন মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকে কিছু দাবি উঠেছে। হক্কানী দরবারের পরিচালক মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী বলেন, আল্লাহর নামে জবাই না করা হলে হালাল পশুর মাংস মুসলমানদের জন্য খাওয়া বৈধ নয়। তাই মুসলিমদের জন্য পশু জবাই অবশ্যই আল্লাহর নামে এবং ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিধান অনুযায়ী হালাল প্রাণীর কিছু অংশ খাওয়া নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয়।
এসব বিষয়েও মাংস প্রস্তুতের সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী বলেন, আধুনিক কসাইখানায় মাংস প্রস্তুত করতে আপত্তি নেই। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে জেলার হক্কানী উলামায়ে কেরাম ও সচেতন মুসলিম সমাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও আধুনিক কসাইখানাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও ইসলামী শরিয়তের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে বলে প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
