ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বগুড়া প্রতিনিধি
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার পর চার দফা দাবিতে শুরু করা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতারা ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন তারা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক মনজুর ই মোরশেদ।
তিনি বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদারসহ সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো পূরণের বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ করা হবে। মনজুর ই মোরশেদ বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আর্মড আনসার মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হাসপাতালের গেটে পর্যাপ্ত পুলিশ এবং একটি ডেডিকেটেড পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং হাসপাতালের জনবল সংকট নিরসনে কাজ করা হবে। এরইমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের বিষয়টিও এরইমধ্যে কার্যকর হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হলে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর টিকিট কাউন্টার খুলে দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সশস্ত্র আনসার মোতায়েন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং একজন রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অ্যাটেনডেন্ট রাখার ব্যবস্থা করা। বৈঠকে প্রশাসনের কর্মকর্তা, শজিমেকের অধ্যক্ষ, রাজনৈতিক দলের নেতারা, বিএমএ নেতারাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বগুড়া শহরের ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের ৫ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বগুড়া শহর শাখা।
৩ সেপ্টেম্বর (২০২৬) বগুড়া শহর ছাত্রদলের সভাপতি এস এম রাঙ্গা ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান রিমন এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেন। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম এবং সদস্য রকিবুল হাসান রাকিব। ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাব। দপ্তর সম্পাদক রাতুল আহসান রিয়াদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো নিশ্চিত করা হয়েছে।
