চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবার মতো প্রচলিত মাদকের কারবার হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় নতুন ধরনের মাদকের কারবার ও ব্যবহার বেড়েছে। ফেনসিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি বাড়ছে ট্যাপেন্টাডলসহ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনের ব্যবহার। চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির কয়েক বছরের অভিযানের তথ্যেও মাদকের ধরন পরিবর্তনের এ প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও পরবর্তী এক বছরে ২৫ হাজার ৪৮৫টি ট্যাপেন্টাডল ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধারের তথ্য রয়েছে। একই সময়ে ১০ হাজার ৬১৭ বোতল ফেনসিডিল এবং ২৩৮ কেজির বেশি গাঁজাও উদ্ধার করেছে বিজিবি। অভিযান, নজরদারি ও পাচারের কৌশলের ওপর উদ্ধার মাদকের পরিমাণ নির্ভর করে।
তবে বিপুলসংখ্যক ট্যাপেন্টাডলসহ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধারের ঘটনা মাদকের ধরন বদলে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। একাধিক অভিযানে শত শত থেকে হাজার হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধারের ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। ফলে প্রচলিত মাদকের পাশাপাশি ওষুধজাত নেশাদ্রব্য এখন মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত টাপেন্টাডল ওষুধকে ২০২০ সালে মাদকদ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মাদকসেবীরা এই জাতীয় ওষুধকে মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করায় একে 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তফসিলে যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এদিকে বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের শুরু থেকেই 'ক' শ্রেণির নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগর সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এসব অঞ্চলে মাদক পাচারের ঝুঁকি দীর্ঘদিনের। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। তবে মাদকের বিস্তার এখন শুধু সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। জেলার অভ্যন্তরেও বিভিন্ন সময়ে মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে থেকে ৫ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর মাদক বিভিন্ন পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে শুধু সীমান্তে নজরদারি নয়, জেলার ভেতরের সরবরাহব্যবস্থার ওপরও নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। মাদকের ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি কিশোর ও তরুণদের মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। সম্প্রতি জেলার জীবননগরে একটি মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভায় চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক ও অনার্সপড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মাদকাসক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রসিকিউটর আকুব্বার আলী বলেন, মাদক প্রতিহত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারি ও সেবনকারী উভয়ের বিরুদ্ধেই মামলা করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া দ্রুত বিচার শেষ করার জন্য সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমেও মাদক কারবারি ও মাদকের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
