কুমিল্লায় ছমিরন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার চান্দিনায় ধানকাটা শ্রমিকের ছদ্মবেশে বাড়িতে অবস্থান করে গৃহকর্ত্রী ছমিরন খাতুনকে (৬০) হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লা। আসামিরা আদালতে ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল শনিবার পিবিআই কুমিল্লা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান।
গ্রেপ্তাররা হলেন- কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিরহাট গ্রামের জাফর আলীর ছেলে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মো. মাসুম বিল্লাহ ওরফে রবিন, জেলার লাকসাম উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে আরাফাত হোসেন ও ঢাকার কদমতলী থানাধীন মদিনাবাদ এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে শরিফুল ইসলাম শান্ত। পিবিআই জানায়, গত ৩ মে সকালে জেলার চান্দিনা উপজেলার অলিপুর গ্রামের নিজ বসতঘর থেকে ছমিরন খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. বশির আহাম্মদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশের পর গত ১০ মে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন পিবিআই-কুমিল্লার এসআই আমিরুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানায়, আসামিরা আগে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারী ঘাটে একসাথে কাজ করত। তারা ভাসমান শ্রমিক হওয়ায় পরবর্তীতে ধানকাটা শ্রমিক সেজে চান্দিনায় ছমিরনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কাজের দক্ষতা ও ধান নষ্ট হওয়া নিয়ে ঘটনার দিন রাতে ছমিরন খাতুনের সাথে শ্রমিকদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ছমিরন খাতুনের ঘরে ঢুকে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকারসহ মোট ৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। পিবিআই পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এ ঘটনায় জড়িত ৪ জনের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
