কেশবপুরে আগাম শীতের সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মশিয়ার রহমান, কেশবপুর (যশোর)

যশোরের কেশবপুরে শীতকে সামনে রেখে সবজি চাষে খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। কথা বলার সময় নেই কৃষকের। এবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৬০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করেছেন কৃষকেরা বলে জানা গেছে। উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, চলতি বছর সবজি চাষে লক্ষমাত্রা ৭৫০ হেক্টর জমি নির্ধারন করা হয়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে গতকাল রোববার পর্যন্ত ৬০০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতের সবজি চাষ করেছেন কৃষকেরা বলে তিনি জানান। উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদা গ্রামের আবদুল কাদের বলেন, কথা বলার সময় নেই, পাই (পিলের শেষ) শেষ করতে হবে সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। একটু বাদে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। ঠিক এসময় প্রায় আবদারের সুরে জমিতে কি বুনচ্চেন বলতেই জানালেন, সার দেওয়া হচ্ছে। মাটি তৈরি হয়ে রয়েছে। আর এক সপ্তাহ পর এই গাছ গুলো থেকে ডগা বের হয়ে ক্ষেত পূর্ণ হয়ে যাবে। আগামী ১৫দিন পর থেকে লাউ এর ডগা কেটে বাজারে লাউ শাক বিক্রি করবেন। কৃষক শেখ আবুল হাসেম জানান, তার ৫০শতক জমিতে লাউ শাক এর চারা লাগানো হয়েছে।

এই ক্ষেত থেকে যে ডগা বের হবে সেগুলো শাক হিসাবে কেটে বাজারে পাঠানো হবে কার্তিক মাস পর্যন্ত। এ জমি থেকে ১০ বার শাক কাটা যাবে। ৫০শতক জমিতে গত বছর প্রায় ৮০হাজার টাকার শাক বিক্রি হয়েছিল। খরচ হয়েছিল প্রায় ২৬/২৭হাজার টাকা। তিন মাসের এই শাকের জমি থেকে ৫০ হাজার টাকার উপর লাভবান হয়েছিলেন। এবছরও একই আশা নিয়ে সকাল-বিকাল লাউ এর বীজ রোপন করা থেকে ডগা বের হয়ে লতানোর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত একটু বেশি পরিচর্যা করতে হয় বলে জানালেন। কার্তিক মাস পর এই একই জমিতে উচ্চ ফলনশীল সরিষা বোপন করা হবে। লাউ এর পাতা জমিতে পড়ে যে জৈব সার উৎপন্ন হবে তাতে সরিষায় কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া যাবে। কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের মির্জানগর, সাতবাড়িয়া ও সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ভাল্লুকঘর গ্রামের মধ্যখানে মাঠ জুড়ে বিভিন্ন রকম শাক-সবজির ক্ষেত কৃষকের ব্যস্ততা বলে দেয় কৃষি কাজে সময় দিলে তা বিফলে যায় না। রাস্তার উপর এসময় কথা হলো সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কাস্তা গ্রামের আদর্শ কৃষক হাজী আব্দুস সাত্তারের সাথে, তিনি দুই জন শ্রমিককে সাথে নিয়ে পাশের মির্জানগর মাঠ থেকে তুলার চারা সংগ্রহ করে ফিরছেন। তার ক্ষেতে কিছু তুলার চারা অতি বৃষ্টির কারনে মারা যেয়ে নষ্ট হওয়ায় সেই ক্ষেত পূর্ণ করার জন্য মির্জানগর থেকে তুলার চারা সংগ্রহ কররেন। একই মাঠে এসময় অপর জমিতে কিটনাশক স্প্রে করছিলেন লিয়াকত হোসেন, তিনি তুলা চাষ করেছেন প্রায় ২৫ শতক জমিতে। তুলার জমিতে কিটপতঙ্গের আক্রমন বেশি হওয়ায় পরিচর্যা বলতে তুলার চারা ছোট থাকতে কিটনাশক স্প্রে করতে হয। কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সবজি চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫০ হেক্টর জমি। অতিবৃষ্টির কারণে কিছু জমি সময় মত আবাদ যোগ্য না হওয়ায় এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত চাষাবাদ সম্পান্ন হয়েছে ৬০০ হেক্টর জমি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকরে এবছর কৃষক উৎপন্ন সবজির ন্যায্য দাম পেয়ে লাভবান হবে বলে আশা করেন তিনি।