পানি সংকট নিরসনে নাসিকের ১৬৯৫ কোটি টাকার প্রকল্প
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে প্রায় ১ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)। 'নারায়ণগঞ্জ গ্রিন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প' এর আওতায় নগরীর পুরোনো ও জরাজীর্ণ পানির পাইপলাইন পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন পানির উৎস হিসেবে মেঘনা নদীর পানি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৯৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে নাসিক। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন লাইন এবং ২৮০ কিলোমিটার নতুন ডিস্ট্রিবিউশন লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে নগরীর পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কে প্রায় ১২৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার পাইপলাইন রয়েছে। এর একটি অংশ ১৯৭০-এর দশকে স্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের পুরোনো এসব পাইপলাইনে লিকেজের কারণে পানি অপচয় ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
নতুন ব্যবস্থায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১৪টি ডিস্ট্রিক্ট মিটারিং এরিয়া (ডিএমএ) গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে কোথায় কত পানি সরবরাহ হচ্ছে এবং কোথায় লিকেজ বা অপচয় হচ্ছে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের আওতায় মেঘনা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে পরিশোধনের পর নগরীতে সরবরাহ করা হবে। এ ক্ষেত্রে 'ইনডিউসড ব্যাংক ফিল্ট্রেশন' (আইবিএফ) ব্যবস্থার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শীতলক্ষ্যা নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে। এ ছাড়া গোদনাইল পানি শোধনাগারের সম্প্রসারণ ও পুনর্বাসন, ২০টি নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন এবং ২০টি বিদ্যমান নলকূপ পুনর্বাসন করা হবে। নগরীর প্রায় ৩৫ হাজার হোল্ডিংয়ে পানির সংযোগ ও স্মার্ট মিটার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭টি ওয়াটার এটিএম বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে পানি অপচয় কমানো। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে 'নন-রেভিনিউ ওয়াটার'-এর হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে তা ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নতুন পানির উৎসের পাশাপাশি আধুনিক ও টেকসই পাইপলাইন স্থাপন জরুরি। এ কারণে প্রকল্পে পানি উৎপাদনের সঙ্গে সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর দীর্ঘদিনের পানি সংকট, লিকেজ ও পানি অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
