মৌসুমি রোপা আমন চাষাবাদে ভালো ফলনের আশা

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে মৌসূমি রোপা আমন ধান চাষাবাদে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। এরমধ্যেই মাঠে মাঠে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি হয়েছে। এ অঞ্চলের কৃষকের মুখে হাসিও ফুটতে শুরু করেছেন। আর পড়ন্ত বিকালে এ সবুজের দৃশ্য দেখে মন জুড়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় প্রায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কৃষকেরা এ চাষাবাদ বেশি করেছেন। এ জেলার চলনবিল এলাকার তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলাসহ সবকয়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জমিতে বিভিন্ন জাতের রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করে কৃষকেরা। এসব ধানের মধ্যে রয়েছে, ব্রি ধান ৭১, ৭৫, ৪৯, ১০৩ এবং দেশীয় জাতের ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এ চাষাবাদে খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা বেশি রোপণ করেছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ পোকামাকড় দমনসহ নানা রকম পরামর্শ দিয়েছেন। শস্যভান্ডার খ্যাত তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ চাষাবাদ বেশি হয়েছে। এরমধ্যেই এ জেলার বিভিন্ন স্থানে মাঠ জুড়ে ধান ক্ষেত পরিচর্যাও শুরু হয়েছে। আর ধান ক্ষেতের সমারোহ দেখে কৃষকের মুখে হাসিও ফুটছে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এবার জমিতে ধানের চারা রোপণের আগে এবং পরে দফায় দফায় বর্ষণে কৃষকের এ চাষাবাদে খরচ কম হয়েছে। খাল-বিল অঞ্চলে এ চাষাবাদ বেশি হয়েছে কীটনাশক প্রয়োগে কিছুটা খরচ বেড়েছে এবং ধান ক্ষেত পরিচর্যা ক্ষেত্রে কামলা সংকট ও মজুরি বৃদ্ধি ঘটেছে। বর্তমানে এ জেলার অনেক স্থানে সার সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে কৃষকের জমিতে সার প্রয়োগে হিমশিম খাচ্ছে এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কিছুটা কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ দেখে কৃষকের মনও জুড়ে যায়। এমনকি অনেকেই এ দৃশ্য ঘিরে সেলফিও তুলছে। আগামী মাসের মাঝামাঝি অনেক স্থানে এ ধান কাটা শুরু হবে এবং এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহম্মেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এ চাষে কৃষকদের নানারকম পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা এ চাষে মাঠও পরিদর্শন করছেন। এবার রোপা আমন চাষাবাদে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।