তীব্র স্রোতে ধাওয়াপাড়া নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ভোগান্তি
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রাজবাড়ী ও দৌলতদিয়া প্রতিনিধি

পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে তিনদিন ধরে বন্ধ রয়েছে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া-পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রী, চালক ও ব্যবসায়ীরা। ফেরি বন্ধ থাকায় অনেক যানবাহন ঘাট থেকে ফিরে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ দীর্ঘ ও বিকল্প পথে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এতে বাড়ছে সময় ও পরিবহন ব্যয়। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা। ধাওয়াপাড়া দিয়ে পদ্মা পার হয়ে পাবনাসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াতকারী মানুষকে এখন বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগার পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে যাতায়াতের খরচ। জরুরি প্রয়োজনে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোটে পদ্মা পার হচ্ছেন। তবে এসব নৌযানে অনেক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট না থাকায় তীব্র স্রোতে পারাপার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘাটসংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে পদ্মায় পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ধাওয়াপাড়া ঘাটে থাকা দুটি ফেরির একটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। অপর ফেরিটিও তীব্র স্রোতের কারণে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো ও সংস্কারের অভাবে ঘাটের ফেরি সার্ভিস প্রায়ই ব্যাহত হয়। দ্রুত বিকল্প ফেরির ব্যবস্থা এবং পুরোনো ফেরিগুলো মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তারা। ধাওয়াপাড়া ঘাটের স্থানীয় দোকানদার আজমল মন্ডল বলেন, 'এই ঘাটের একটি ফেরি দুই থেকে তিন মাস আগেই নষ্ট হয়ে বন্ধ হয়ে আছে। যে ফেরিটি চলাচল করত, সেটিও কয়েক দিন ধরে বন্ধ। অথচ এই ঘাট দিয়ে প্রতিনিয়ত ১৫০ থেকে ২০০ যানবাহন এবং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ যাত্রী পারাপার হয়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে ভালো মানের কোনো ফেরি নেই। মাঝেমধ্যেই ফেরি চলাচলে সমস্যা হয়।
এখন পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই নৌরুটে ভালো মানের একটি ফেরি খুবই প্রয়োজন। যাত্রী আতাউর রহমান আতিয়ার বলেন, 'বালিয়াকান্দি থেকে এসেছি। জরুরি প্রয়োজনে পাবনায় যাব। ঘাটে এসে দেখি ফেরি বন্ধ। নদীতে প্রচুর স্রোত ও ঢেউ। এ অবস্থায় ট্রলারে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ, তবুও উপায় নেই। আরেক যাত্রী আজিজ বলেন, 'ফেরি চলার জন্য, তা বন্ধ থাকবে কেন? আর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যদি বন্ধ থাকে, তবে সরকার দ্রুতব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যাতে যাত্রী সাধারণ এবং যানবাহনগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। এদিকে ফেরি বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে নদী পার হচ্ছেন অনেকে। যাত্রীদের অভিযোগ, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় স্পিডবোটের ভাড়াও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সুজাত বিশ্বাস বলেন, 'স্পিডবোটের ভাড়া ছিল ১০০ টাকা, তা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা, আজকে আবার ১৫০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে স্পিডবোট এবং ট্রলারে যেতে হচ্ছে। ট্রাকচালক নুরুজ্জামান বলেন, 'আজ তিনদিন হলো ঘাটে এসে বসে আছি। স্রোত কমলে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু আজ দুদিন হলো ঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিসির কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। সিরাজগঞ্জ যাব, অন্য পথ হয়েও যাব, তারও উপায় নেই। অর্থসংকট রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট সুমন খান বলেন, 'তীব্র স্রোতের কারণে তিনদিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফেরির চাহিদার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি তারা দেখছে।
