নারায়ণগঞ্জে ৭১ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিভিন্ন বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ। গতকাল বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ সংবর্ধনা ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৭১ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও এককালীন নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে ফলদ গাছের চারা দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। জেলা পরিষদের সচিব রামানন্দ পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী নাহিদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নানা ধরনের কর্মসূচি রয়েছে। তার মধ্যে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা ও মেধার বিকাশে সহায়তা করা অন্যতম। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। অথচ আমাদের লিড দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। সেই ধারণা থেকেই আমরা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তোমাদের ফলাফলে আমরা গর্বিত। মেধাবীদের পাশে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ আছে এবং থাকবে। আমরা নেগেটিভ নারায়ণগঞ্জ নয়, পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ চাই।

তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে নারায়ণগঞ্জকে ঘিরে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, মেধাবী তরুণদের হাত ধরে সেই ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে বোর্ড পরীক্ষায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রথম হবে, ইনশাআল্লাহ।

মামুন মাহমুদ বলেন, শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যারা প্রতিভাবান, তাদের খুঁজে বের করে সম্মানিত করা হবে। মেধাবীদের জন্য জেলা পরিষদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, 'আমাদের নিজেকে প্রশ্ন করতে শিখতে হবে। নিজেকে জানতে হবে। নিজের ভেতর থেকেই সবকিছু জানার ও বোঝার চেষ্টা করতে হবে।'

সদ্য সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষায় ১২০২ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থী বায়েজিদ ইবনে ওবায়েদ বলেন, নিজ জেলার জেলা পরিষদ থেকে এ ধরনের সংবর্ধনা পাওয়া আমার জন্য গর্বের বিষয়। আমার এই ফলাফলের পেছনে বাবা-মা ও শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী অমিত হাসান বলেন, এ ধরনের আয়োজন আগে দেখিনি। আমাদের জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের ও অনুপ্রেরণার। এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমরা জেলা পরিষদের কাছে কৃতজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।