পদ্মা ব্যারেজে বদলে যাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাজবাড়ী ও পাংশা প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ হলে দেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের ২৪ জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ এর সুফল পাবেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, নৌযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে বদলে যাবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনীতি এবং সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এলাকা পরিদর্শন করেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ও বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে ২৪ জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর নদীভাঙন ও বন্যায় এ অঞ্চলের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটও দেখা দেয়। পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে একদিকে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে, অন্যদিকে নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। এর সুফল কৃষি, মৎস্য ও নৌযোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে পাওয়া যাবে।

প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ২০০৪ সাল থেকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। চলতি বছর একনেকের অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজের দৈর্ঘ্য হবে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও গাইড বাঁধ। ব্যারেজের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নৌযোগাযোগের উন্নয়ন ঘটবে। পানি সংরক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা সহজ হবে। একই সঙ্গে নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

এ সময় গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা ও গ্যারান্টি ক্লজ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও জানান, শুধু বড় প্রকল্পের মাধ্যমে নয়, সারাদেশে খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের লক্ষ্য রয়েছে। পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের পানিসংকট, নদীভাঙন ও বন্যার সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, নৌযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এতে সংশ্লিষ্ট ২৪ জেলার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ হারুন বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন হাবাসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক।