চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০৬.৪ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও এর প্রভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। গত চার দিন ধরে এই দুই উপজেলায় পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।
সদর উপজেলার নারায়নপুর ও আলাতুলি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। আকস্মিক এই বন্যায় ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। পানিবন্দি এসব এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং গবাদিপশু ও আসবাবপত্র সরাতে গিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া পানি প্রবেশ করায় ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
পদ্মা নদীর উজানে ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেটই খুলে দেওয়ায় ভারত থেকে অতিরিক্ত পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এর ফলে নদীপাড়ের বাসিন্দারা বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পানি স্থির রয়েছে।
মহানন্দা নদীতে ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পুনর্ভবা নদীতে ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২ দশমিক ২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, পূর্বাভাস অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় পানি বাড়লেও বর্তমানে তা স্থির রয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, দু-এক দিনের মধ্যেই নদীর পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যার পানিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মোট ২০৬.৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ১২৪.৬ হেক্টর, শিবগঞ্জে ৭৬.৮ হেক্টর এবং গোমস্তাপুরে ৫ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে, আউশ ধান ১১৩ হেক্টর, আমন ধান ৫ হেক্টর, মাসকলাই ১০.৬ হেক্টর, শাকসবজি ৪০ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও বীজতলা ০.৮০ হেক্টর, কলা ২৮ হেক্টর, মরিচ ৩ হেক্টর, হলুদ ৪ হেক্টর, পেঁপে ২ হেক্টর। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম বলেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির মধ্যে আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, তার ইউনিয়নে ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে এবং গত দুই দিনে ৪৬৬টি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পানি নেমে গেলে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তিনি দ্রুত মেডিকেল টিম গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্য নাজির হোসেন জানান, শনিবার পদ্মা নদীতে পানি না পারলেও স্থির রয়েছে। বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষ। পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ চলছে। এছাড়া আলাতুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনও পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের কথা জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী জানান, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২ হাজার ৯০০ পরিবারকে তালিকাভুক্ত করে মোট ২৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
