সিরাজগঞ্জে ১০৫৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে ১০৫৬ সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক নেই। এতে স্কুলের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পদ শূন্য থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ গুরুত্বপূর্ণ পদ দ্রুত পূরণে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলায় ১ হাজার ৬৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে কাজীপুরে ১৫৯, শাহজাদপুরে ১৫৫, রায়গঞ্জে ১১৩, তাড়াশে ৯৭, কামারখন্দে ৩১, বেলকুচি ১০৩, চৌহালী ৯০ ও উল্লাপাড়া ১৬৮ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৪০টি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও সহকারী শিক্ষক পদ ৯ হাজার ৩৭৩ জন থাকলেও কর্মরত রয়েছে ৮ হাজার ৫২৬ জন। এ পদেও শূন্য রয়েছে ৮৪৭ জন। এ হিসেবে ৬৩ ভাগেরও বেশি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নেই এবং প্রধান শিক্ষক না থাকায় সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলছেন, বিভিন্ন স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় আগের মতো আর ক্লাস নিতে সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলার অনেক শিক্ষা অফিসার বলছেন, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা, মামলা, নিয়োগ পরীক্ষায় দেরি, পদোন্নতিতে ধীরগতির কারণে এ সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এ কারণে এ সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা শিখন ঘাটতি নিয়ে ওপরের শ্রেণিতে ওঠে এবং বর্তমানে শিক্ষক সংকট এ সমস্যাকে আরো প্রকট করে তুলছে। এ জেলার উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার প্রধান শিক্ষকের সংকট বেশি এবং জেলার সবকয়টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষা ব্যবস্থা চরম ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছে বিশিষ্টজনেরা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাহাব উদ্দিন আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, শুধু প্রধান শিক্ষক সংকট নয়। সহকারী শিক্ষকেরও ব্যাপক সংকট রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এসব পদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এরইমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে শূন্য পদ পূরণ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
