কয়েক বছর ধরে পরিত্যক্ত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়গুলো
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় গুলো এমপিও ভুক্তি করণ হবে লোকমুখে এ খবর শুনে নরে চরে বসতে শুরু করেছে, কয়েক বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় গুলো। জানা গেছে, ২০১৬ সালে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হলেও দেখা যায়নি কোন শিক্ষা কার্যক্রম। যে বিদ্যালয় গুলো এর আগে ভূতের বাড়ি কিংবা গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে কাগজে কলমে সব ঠিক থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
অভিযোগ উঠেছে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত ভাষা শহীদ আবুল বরকত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে গুদাম ঘর হিসেবে। বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে দেখা যায় তামাকের ডাটা। দেখে মনে হয় কক্ষগুলো যেন ব্যবসায়িক গুদাম ঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়েক বছর যাবত বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মাঠটি যেন গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। মাঠে দেখা মেলে দুটি খরের স্তুপ, যা মানুষ রান্নার কাজে ব্যবহার করে থাকে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্তির জন্য বেশ তৎপর একটি মহল।
সম্প্রতি হাতীবান্ধা উপজেলার বিভিন্ন প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শেহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ৩ টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করি। কিন্তু ভাষা শহীদ আবুল বরকত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত নেই কোন শিক্ষা কার্যক্রম। কাগজে কলমে সব ঠিক থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
পাশাপাশি ডাউয়াবাড়ি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন সমবায় কর্মকর্তা ইউনুস আলী। তার পরিদর্শনের দিন বিদ্যালয়ে কার্যক্রম সচল থাকলেও বর্তমানে তালাবদ্ধ এই বিদ্যালয়। সরজমিনে এ বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক কে পাওয়া না গেলেও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান বাবলা এর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরজমিন এসব বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপজেলার অধিকাংশ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপ জন মিত্র মুঠোফোনে জানান, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে ডিসি অফিসে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।
