সরকারি জমি ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে সরকারি জমি ও হাসপাতাল এলাকা থেকে অবৈধ দখল ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং ফরিদপুর পৌরসভার উদ্যোগে এসব অভিযান চালানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) শাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে সওজের সরকারি জমি ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সামনে থেকে ভাঙ্গা-ফরিদপুর (গোয়ালচামট) সড়কের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট এলাকা হয়ে ভাঙ্গা সড়কের মোড় পর্যন্ত সওজের আওতাধীন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাট এবং সওজের সরকারি জমি দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি জমিতে অবৈধ দখল ও হাসপাতাল এলাকায় অস্থায়ী দোকানপাটের কারণে রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। উচ্ছেদের ফলে হাসপাতাল ও সড়কসংলগ্ন এলাকায় চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। উচ্ছেদ করা জায়গায় পুনরায় অবৈধ দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।
অন্যদিকে, বিকেলে ফরিদপুর পৌরসভার উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হয়। পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসেইন মো. হাই জাকিরের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পৌরসভার সুপার মার্কেট ও আশপাশের এলাকা, চকবাজার, নিউমার্কেটসংলগ্ন এলাকা, ময়রা পট্টি ও মুজিব সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করা হয়। অভিযানে ফরিদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল আলম, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলুর রহমান, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আহাদুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মো. আশরাফ, উপসহকারী প্রকৌশলী শিমুল দাস, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) শরিফুল হাসান, উপসহকারী প্রকৌশলী (লাইটিং) হাসান রাজু, হিসাবরক্ষক কৃষ্ণ সাহাসহ পৌরসভার বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারি জমি ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার পৃথক এ দুই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, উচ্ছেদ করা স্থানগুলোতে যাতে পুনরায় দখল বা অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
