রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন কমিটির সমন্বয় সভা

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন কমিটির সমন্বয় সভায় সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার ও অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। বৃহস্পতিবার রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে বিভাগীয় উন্নয়ন কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম, এনডিসি। উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মু. মাহবুবুর রশীদ, বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ।সভায় সরকারি দপ্তরগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার, জনসেবা নিশ্চিতকরণ, সরকারি সম্পদ সুরক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনানুগ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় ও পুলিশি কার্যক্রম

গণপূর্ত অধিদপ্তর : সরকারি স্থাপনা ও জমি দখল, চুরি, ভাঙচুর এবং সরকারি সম্পদ ক্ষতিসাধনসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর : মহাসড়ক ও সড়কের জায়গা অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি, সড়ক অবরোধ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় পুলিশি সহায়তা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) : গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী চুরি, ভাঙচুর এবং প্রকল্প এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড : নদী, বাঁধ, বেড়িবাঁধ ও পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং সরকারি সম্পদ দখলসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্তকরণ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড : বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে নাশকতা, বিদ্যুৎ চুরি, অবৈধ সংযোগ এবং সরকারি সম্পদ ক্ষতিসাধন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অপরাধ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পুলিশি সহায়তা প্রদান করা হবে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড : পল্লী বিদ্যুতের অবকাঠামো, ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি এবং বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে অবহিতকরণ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর : নিরাপদ পানি সরবরাহের অবকাঠামো, গভীর নলকূপ ও সরকারি পানির স্থাপনা চুরি, ভাঙচুর এবং অবৈধ দখল থেকে সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় অপরাধের তথ্য পেলে দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।