বাঞ্ছারামপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। চলতি বছরের আগস্ট থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় দেড় মাসে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্থানীয় পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
শুধু বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় অবস্থিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে দেড়মাসে ৩০ জন রোগী ডেঙ্গু পজিটভ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে সরকারি হাসপাতালে ঘুরে মশারী টানিয়ে বেশ কয়েকজন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
তাদের মধ্যে আলাউদ্দিন মিয়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৪দিন আগে। তিনি পেশায় ছাত্র। তিনি জানান,হাসপাতালের সেবা ভালো। এখানেই সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। চিকিৎসা চলছে। রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় বর্তমানে আগের চেয়ে সুস্থ থাকলেও দুর্বলতা কাটেনি। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের বসবাস। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকার তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেও স্থানীয় প্রশাসনের সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা বা প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা তাদের নজরে পড়েনি। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও সতর্কতামূলক প্রচারে ব্যবস্থা নেননি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
এবিষয়ে কথা বললে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মন জানান, ডেঙ্গু সন্দেহ হলে রোগীর এনএসওয়ান, আইজিজি-আইজিএম হাসপাতালের ল্যাবে পরীক্ষা করেন।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদা কয়েকটি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার কিট ও ল্যাবরেটরি চালু আছে।
তারা সক্ষমতা অনুযায়ী রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য মতে, গত আগস্টে ১৪ জন ও সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত ১৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। অনেককেই ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, প্রাইভেট ক্লিনিকে চলতি মৌসুমে শতাধিক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন বলে ক্লিনিকগুলো থেকে জানা গেছে।
পৌরবাসীর অভিযোগ, ডেঙ্গুর প্রকোপের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকলেও প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে। মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এবং পৌরসভার প্রশাসক মো. রবিউল হাসান ভূইয়ার ভাষ্য, আমাদের পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এর বিপরীতে মশক নিধনে ফগার মেশিন আছে মাত্র ২টি। জনবলও নেই। ২টি দিয়ে কাজ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের দক্ষ জনবল দরকার।
পৌর প্রশাসক আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ড্রেন, নর্দমার ময়লা-আর্বজনা পরিষ্কার, স্কুল-কলেজ পরিষ্কার ও পরিত্যক্ত জায়গায় আটকা পানি সরাতে কাজ শুরু করেন। ফগার মেশিন সংগ্রহ ও মশা মারার ওষুধ সংগ্রহের কাজ চলছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
