তিতাসে ১৪ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়েছে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তাজুল ইসলাম, তিতাস (কুমিল্লা)

ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল ১ হাজার ৯৬১ শিক্ষার্থী। পাঁচ বছর পর ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ হাজার ৩৭২ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৫৬ জন। অর্থাৎ ২০২১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত এসএসসি পাস করেছে মাত্র ৪৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। হিসাব অনুযায়ী, অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী এসএসসি পাস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ১৪টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২১ সালের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া যায়।

তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগে ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকা ১ হাজার ৯৬১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর্যায়ে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩৭২ জন। অর্থাৎ এ সময়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৮৯ জন বা ৩০ দশমিক ০৩ শতাংশ। আবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৩৭২ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৫৬ জন। ফলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েও ৪১৬ জন উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসএসসি পরীক্ষার্থী থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে অনুত্তীর্ণের হার ৩০ দশমিক ৩২ শতাংশ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৯৬১ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচ বছর পর এসএসসি পাস করেছে মাত্র ৯৫৬ জন। অর্থাৎ ১ হাজার ৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পাসের তালিকায় নেই, যা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া মোট শিক্ষার্থীর ৫১ দশমিক ২৪ শতাংশ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নথিতে বিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার চিত্রেও বড় পার্থক্য দেখা যায়। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর তুলনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং উত্তীর্ণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ইউনিয়ন কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নিবন্ধিত ছিল ১২৪ জন। ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ৪৩ জন, উত্তীর্ণ হয় ৩৪ জন। অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণির তুলনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে ৮১ জন বা ৬৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর তুলনায় এসএসসি পাস করেছে ৯০ জন কম; অর্থাৎ ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মাত্র ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ এসএসসি পাস করেছে। ইউনিয়ন কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনের মতে, বিদ্যালয়টি চর এলাকায় হওয়ায় এখানে মেয়েদের বাল্যবিবাহ ও ছেলেদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। এছাড়াও পরিসংখ্যানের সূত্রপাতে করোনাকালিন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুব কম। এগুলোছাড়াও কিন্তু আমরা এসএসসি'র নির্বাচনি পরিক্ষায় যারা একাধিক বিষয়ে ফেল করেছে তাদেরকে আর সুযোগ দেওয়া হয়নি। সে কারণে এই স্কুলে ড্রপ আউট ৭০ শতাংশ। তবে তিনি মনে করেন, এটি ৩০-৩৫ শতাংশ হলে স্বাভাবিক। তিনি আরও জানাচ্ছিলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া ও বিদ্যালয়ে গমনে ব্যাপক অনিহা প্রকাশ পাচ্ছে। এই প্রজন্মকে বিদ্যালয়মুখী করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে মাছিমপুর রামগতি রামনিধি ইনস্টিটিউশনে ২০২১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ছিল ৩৩২ জন। পাঁচ বছর পর ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ১৫০ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ১০৮ জন। অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর তুলনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে ১৮২ জন বা ৫৪ দশমিক ৮২ শতাংশ।