ডিসেম্বরে খুলছে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এস,এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের মহাসড়কের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ কাজ সমাপ্তির পথে। প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ইন্টারজেঞ্জ আগামী ডিসেম্বর মাসে খুলে দেওয়া হবে। এ ইন্টারচেঞ্জে উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার মহাসড়কের নিরাপদ যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। এতে এ অঞ্চলের উন্নয়নে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকার ওই মহাসড়ক এলাকায় দেশের দ্বিতীয় ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণে ৭৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় এবং এ প্রকল্প বাস্তবায়নে দরপত্র আহবান করা হয়। সরকারি বিধিমতে এ দরপত্রে নির্বাচিত চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কর্পোরেশন ২০২২ সালে এ প্রকল্প কাজ শুরু করে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরইমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বালি ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, এসএমবিডি ব্রিজ নির্মাণ ও সার্ভিস এরিয়ার কাজের পাশাপাশি চালু করা হয়েছে ৬টি সার্ভিস লেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে দিন-রাত দুই শিফটে চলছে নির্মাণকাজ। সাসেক-২ এর প্রকল্প পরিচালক ওয়ালিউর রহমান ও উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক সরফরাজ হোসাইন বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২৪ ঘণ্টায় ২ শিফট কাজ করছে। আশা করছি প্রধান যে স্ট্রাকচারটা সেটা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে পারব। ইনোভেটিভ টেকনোলজি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সার্ভে করার জন্য জিপিএস ব্যাবহার করা হচ্ছে। এতে সহজে সার্ভে করা যায় প্রতিদিন। এছাড়াও বিল্ডিং ইনফরমেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে মনিটর করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারচেঞ্জের নির্মাণকাজ শেষ হলে যমুনা সেতুর সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করা যাবে। এতে বাড়বে যানবাহনের গতি এবং নিশ্চিত হবে সড়ক নিরাপত্তা। এ ইন্টারচেঞ্জ চালুতে এ অঞ্চলের উন্নয়ন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে এ অঞ্চলে দূর্ঘটনা থেকে মুক্তি পাবে জনগণ এবং সেইসাথে যাত্রী সাধারণের দূর্ভোগও কমে যাবে। সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পণ্যসামগ্রী যদি নেওয়া যেতে পারে, তাহলে পণ্যসামগ্রীর মূল্য কমে যাবে। এ ইন্টারচেঞ্জ চালুতে এ অঞ্চলের উন্নয়নের প্রসার ঘটবে। এ অঞ্চলের যানবাহন চালক ও যাত্রীদের দূর্ভোগ কমে যাবে এবং মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বিভিন্ন যানবাহনের দূর্ঘটনা কমবে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে যথানিয়মে তদারকি করা হচ্ছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের কর্মকর্তারাও সার্বক্ষনিকভাবে দেখাশোনা করছেন। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ প্রকল্প কাজ পরিদর্শন করছেন এবং ২/১ মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে । আগামী ডিসেম্বর মাসে এ ইন্টারচেঞ্জ খুলে দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।