ভাণ্ডারিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের পাশাপাশি মেঝেতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় বাজারে ডাব সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। বর্তমানে একটি ডাব ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং মালটা বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকা কেজি দরে। তবে স্থানীয় জাতের মালটা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। শুক্রবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বাইরে মেঝেতেও রোগীদের ভিড়।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেককেই শয্যার বাইরে অবস্থান করতে দেখা যায়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কামাল হোসেন জানান, গত কয়েক দিনে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। কোনো কোনো দিন এ সংখ্যা ৭০ জনে পৌঁছাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৪৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৩১ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩৭ জন। এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এডিস মশার লার্ভার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা ও পৌরসভাসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে প্রতিদিন সভা ও সেমিনার করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের জরিমানার আওতায় আনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইব্রাহীম মোল্লা জানান, বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। রোগীর চাপে হাসপাতালের মেঝেতেও জায়গা হচ্ছে না। ডেঙ্গুর চারটি ধরন রয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গু-ই বেশি দেখা যাচ্ছে।
ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো সমস্যা নেই। তবে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, জনবল সংকট থাকলেও কর্মরত সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিছুটা কষ্ট হলেও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীদের সর্বাত্মক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ও পৌর প্রশাসক ইউএনও হাসিবুল হাসান জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে প্রতিদিন পৃথকভাবে আলোচনা সভা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
