সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মগোপনে ব্যবস্থাপক
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শেরপুরে 'রিলিজ ঋণদান ও সঞ্চয় সমিতি'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম সরদারের বিরুদ্ধে সদস্যদের সঞ্চয় ও এফডিআরের কোটি টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকা ফেরতের দাবিতে তা বাড়ির সামনে প্রতিদিনই ভিড় করছেন সদস্যরা। সেইসঙ্গে বিক্ষোভও করছেন তারা। একপর্যায়ে বাধা দেওয়ায় গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার শাহ আলমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সঞ্চয়দাতাদের দুই দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হন। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯ সালে উপজেলা সদরের অদূরে দুবলাগাড়ী বণিকপাড়া এলাকায় 'রিলিজ ঋণদান ও সঞ্চয় সমবায় সমিতি' প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি সেখানে সঞ্চয় ও এফডিআর করেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরদার আত্মগোপনে যান বলে অভিযোগ করেন সঞ্চয়দাতারা। ভুক্তভোগী ঝর্না বেগম বলেন, তিনি একজন বিধবা। সমিতিতে তাঁর এক লাখ টাকা জমা রয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি টাকা ফেরত পাননি। রেবেকা বেগম নামে আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, গত ১০ জুলাই তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা না দিয়ে শাহ আলম সরদার আত্মগোপনে চলে যান। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য কুসুম্বী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শাহ আলম পান্নার কাছে অভিযোগ করেন। চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা বৈঠক ডাকা হলেলও সমিতির ব্যবস্থাপক শাহ আলম সরদার উপস্থিত হননি। পরে ইউপি চেয়ারম্যান ভুক্তভোগীদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর ক্ষুব্ধ সঞ্চয়দাতারা শাহ আলম সরদারের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা ফেরতের দাবি জানান এবং বাড়িতে তালা লাগানোর চেষ্টা করেন। এ সময় শাহ আলমের বাবা বাদশাহ সরদারের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন। বাদশাহ সরদার বলেন, আমার ছেলে সমিতি থেকে টাকা নিয়েছে, এটা জানি। তবে কত টাকা নিয়েছে, তা জানি না। বিষয়টি নিয়ে বসার কথা ছিল। কিন্তু পাওনাদারেরা হঠাৎ বাড়িতে এসে তালা লাগাতে চাইলে আমি বাধা দিই। এ সময় তাঁরা আমাকে মারধর করেন। ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেবেকা বেগমের এক লাখ টাকা, খালেদা আক্তারের ৪৫ হাজার, ঝর্না বেগমের এক লাখ, পারুলের দুই লাখ ৪৫ হাজার, ডলি বেগমের দুটি এফডিআরে দুই লাখ, দিশা আক্তারের এক লাখ ৫০ হাজার, আমিনুল ইসলামের তিন লাখ, এলিনা খাতুনের ৫০ হাজার, দিলবর আকন্দের তিন লাখ এবং রোকেয়া বেগমের দুই লাখ টাকা সমিতিতে জমা রয়েছে। এছাড়া আরও অসংখ্য সদস্যদের প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা সমিতিতে রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। তবে ভুক্তভোগীদের দাবিকৃত মোট অর্থের পরিমাণ এবং সমিতির মোট দায়-দেনার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে 'রিলিজ ঋণদান ও সঞ্চয় সমিতি'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম সরদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি আত্মগোপনে থাকায় এবং ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, এই বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
