পাবনার আতাইকুলা-ডেমড়া আঞ্চলিক সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মরণ ফাঁদে পরিণত
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার আতাইকুলা-ডেমড়া আঞ্চলিক সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটিতে খানা-খন্দ ও বিশালাকৃতির গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে জেলার ফরিদপুর, আতাইকুলা, সাঁথিয়া ও পাবনা সদর থানার প্রায় ১০ লক্ষাধিক জনগণ চরম ভোগান্তি পোহাতে হে"ছ। স্কুল শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, দিনমজুর, সিএনজি-ভ্যন-অটেরিঙ্া চালক, চাকুরীজীবীসহ সকল শ্রেণীপেশার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অপরদিকে কৃষি পণ্য সরবরাহ, অসুস্' রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, জেলা শহরে যাতায়াতে পড়তে হে"ছ বিড়ম্বনায়। জনভোগান্তি লাঘবে সড়কটি দ্রুত সংস্কার (পুন:র্নির্মাণ)' দাবি জানিয়েছেন স্'ানীয়রা। অপরদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের লক্ষ্যে এলজিইডি'র উর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।
জানা গেছে, সহজে যাতায়াত ব্যবস্'া ও দুরত্ব কম হওয়ায় সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়িতে অবস্'িত তেলের ডিপু'র গাড়ি ডেমড়া-আতাইকুলা সড়ক হয়ে পাবনা, নাটোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করে। এছাড়াও দেশের স্বনামধন্য কাপড়ের বাজার শাহজাদপুর ও আতাইকুলা হাঁটের ব্যবসায়ীদের যাতায়াত ও পণ্য আনা-নেওয়ার সবচেয়ে বড় রুট এই আঞ্চলিক সড়ক।
স্'ানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পাবনা অফিসের একটি সুত্র জানান, ৯০ দশকে নির্মিত জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সর্বশেষ প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে সংস্কার কাজ হয়েছিল ৭ বছর পুর্বে। ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিন্নাত আলী জিন্নাহ্ ট্রেডার্স। সংস্কারের পর ২-৩ বছরে মধ্যেই সড়কটি খানা-খন্দ ও বিশালাকৃতির গর্তের কারণে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়।
এলাকাবাসি জানান, কৃষিপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয় কেন্দ্র ধুলাউড়ি হাঁট ও কাপড়জাত পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ হাঁট আতাইকুলা হাঁটে পণ্য সরবরাহ কাজে ব্যবহৃত ভ্যান ও অটোগাড়ী প্রতিনিয়ত পড়ছে দুর্ঘটনার কবলে। অসুস্' রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সহ সাধারন জনসাধারনের যাতায়াতের বাহন সিএনজি ও বোরাক গাড়ীও দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
ফরিদপুর উপজেলার ডেমড়া ইউনিয়নের পাচুরিয়াবাড়ি এলাকার কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি একজন কৃষক। উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রয়ের জন্য ধুলাউড়ি হাটে যেতে হয়। কিন্' ডেমড়া-আতাইকুলা সড়ক সম্পুর্ণ চলাচল অনুপযোগী হওয়ায় অনেক দূরে অবস্'িত বেড়া চতুর হাঁটে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ বেশি লাগে। সড়কটির বেহাল অবস্'ার কারনে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে বিড়ম্বনায় পড়তে হে"ছ।
পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের স্নাতকোত্তর (ব্যবস্'াপনা) শিক্ষার্থী রিপন হোসেন বলেন, আমার বাড়ি ডেমড়া। এই সড়ক দিয়ে কলেজে যাতায়াত করি। বর্তমানে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি অতিদ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবী জানান।
আতাইকুলা-ডেমড়া সড়কে চলাচলকারী কয়েকজন সিএনজি গাড়ী চালক বলেন, এই রাস্তাটি সিএনজি চলাচলের অনুপযোগী। আমরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ী চালাই, গাড়ীর প্রচুর ক্ষতি হয়। আগে দুই মাসে একবার গ্রিজ করতে হতো, এখন মাসে দুইবার গ্রিজ করতে হয়। গাড়ীর ডেমারেজ ও গ্যাস খরচ বাদ দিয়ে এখন সংসার ঠিকমত চলে না।
সেলুন্দা এলাকার অটো চালক বিপ্লব বলেন, কয়েকদিন আগে একটা রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে যাওয়ার সময় আমার অটো ভেঙ্গে গেছে। ঋন করে গাড়ী ঠিক করেছি। সরকারের নিকট দাবি জানাই অতিদ্রুত রাস্তাটি মেরামত করে দিক।
সাঁথিয়া উপজেলার ভূলবাড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল হুসাইন বলেন, আমাদের প্রয়োজনে পাবনা সদর, আতাইকুলা, ডেমড়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহরে যেতে অনেক কষ্ট হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
স্'ানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)' পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ডেমড়া-আতাইকুলা সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। সড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কটির বর্তমান অবস্'া ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত'ই সড়কটির সংস্কার কাজ হবে।
