ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে চসিক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার দুপুর ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এসব কথা বলেন। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মেয়র বলেন, এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন— এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহারের জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় কাজীর দীঘি ও আশপাশের এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতন করা হয়। মেয়র বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর সচেতনতা, সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
