কাউখালীতে নদীভাঙনে বিলীনের পথে পাঁচ মন্দির

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের সোনাকুর এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। একের পর এক বসতঘর, বিদ্যুতের খুঁটি ও মৃৎশিল্প তৈরির পুঁইন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে এলাকার পাঁচটি মন্দির। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় মন্দিরগুলোও নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা মন্দিরগুলো হলো— লোকনাথ মন্দির, দুর্গা মন্দির, গঙ্গা মন্দির, কালী মন্দির ও শীতলা মন্দির। বর্তমানে মন্দিরগুলোর চারপাশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মন্দিরগুলো কোনো রকমে দাঁড়িয়ে আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মন্দিরগুলোর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা সভাপতি হরিপদ কুণ্ড ও সাধারণ সম্পাদক অমল পাল জানান, গতকাল রোববার সকালে সূর্য ওঠার পর হঠাৎ করেই মনা পালের বসতঘর, বিদ্যুতের খুঁটি ও তারসহ প্রায় দুই একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একই সঙ্গে মৃৎশিল্প তৈরির কয়েকটি পুঁইনও ভাঙনের কবলে পড়ে।

স্থানীয় রঞ্জিত পাল সকালে মাছ ধরতে নদীর পাড়ে গিয়ে ভাঙন দেখতে পান। তিনি ডাক-চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় স্থানীয়রা ঘরবাড়ি ও মন্দির থেকে প্রয়োজনীয় কিছু মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই বিকট শব্দে একটি বড় অংশ নদীগর্ভে ধসে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে সোনাকুর এলাকায় প্রায় ২০টি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। আরও ১০টি পরিবার বিভিন্ন স্থানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নতুন করে অমল পাল, পরিমল পাল, তৃপ্তি পাল, রবি মালো, বিপুল মালো, সুমন মালো, সঞ্জীব মালো, রঞ্জিত মালো ও রমন পালের বসতঘরও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এরইমধ্যে মনা মালোর বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভাঙনকবলিত পরিবারের অনেকেই বর্তমানে খাদ্যসংকটে রয়েছেন। দুর্গাপূজা সামনে রেখে মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ভাঙন শুরু হলে কারিগররা নিরাপদে সরে যেতে পারলেও তৈরি করা কয়েকটি প্রতিমা নদীতে পড়ে ভেঙে যায়।

এলাকাটিতে তিনটি মৃৎশিল্পের পুঁইনও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এসব পুঁইনে পোরানোর উদ্দেশ্যে হাজার হাজার টালি তৈরি করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা টালিগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

এদিকে বিদ্যুতের খুঁটি ও বৈদ্যুতিক তার নদীতে পড়ে যাওয়ায় এলাকাটিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি ও তার অপসারণের দাবি জানালে কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করেন। এতে এলাকাটি বিদ্যুৎ শূন্য হয়ে পড়ে। এদিকে ভাঙ্গনের কবলে পড়া দশটি পরিবার তাদের মালামাল সরানোর কাজে ব্যস্ত থাকায় এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী না থাকায় তারা রোববার সকাল থেকে অনাহারে আছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এই সংবাদের ভিত্তিতে ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন আমরাজুড়ী ইউনিয়নের প্রশাসক ও আইসিটি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পাঁচটি মন্দিরসহ আরও বসতঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অল্প সময়ের মধ্যেই সন্ধ্যা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পূর্ণবাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তারের সাথে কথা বললে তিনি জানান মিটিংয়ে আছেন বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।