বাঞ্ছারামপুরে নিখোঁজের ৬ দিন পর তিতাস নদী থেকে লাশ উদ্ধার

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নিখোঁজের ৬ দিন পর তিতাস নদী থেকে মুকবুল হোসেন গুড্ডু (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) রোববার দুপুরের দিকে উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের মিরপুর এলাকায় তিতাস নদীর পানির তলদেশ থেকে নৌকার সঙ্গে লোহার এঙ্গেল ও রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার সহযোগিতায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দলের সদস্যরা। মুকবুল হোসেন উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের মৃত মোহন মিয়া ব্যপারীর ছেলে ও পাঠামারা গ্রামের বাসিন্দা।তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি তিতাস নদীতে বালু উত্তোলনের একটি ড্রেজার ব্যবসার অংশীদার ছিলেন।

মুকবলের বড় ভাই বাবুল মেম্বার,স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার পর ড্রেজার থেকে নিখোঁজ হন মুকবুল। এরপর স্বজন ও স্থানীয়রা নদীসহ আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। পরে এ ঘটনায় ২২ সেপ্টেম্বর বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

এদিকে একই এলাকায় রুবেল মিয়া নামে আরও একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

পরে শনিবার রাত ১০টার দিকে তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অসুস্থ অবস্থায় রুবেল মিয়াকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।রুবেল মিয়া মুকবলের ব্যবসায়িক পার্টনার ছিল।

মুকবুলের সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল রোববার সকাল ৮টা থেকে মিরপুর এলাকায় তিতাস নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তল্লাশির পর দুপুরে দিকে নদীর পানির তলদেশে নৌকার সঙ্গে লোহার এঙ্গেল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় মুকবুলের মরদেহের সন্ধান পান ডুবুরিরা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে ডুবুরি আশিক মাহমুদ ও দেলোয়ার হোসাইন উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, 'মিরপুর এলাকায় তিতাস নদীতে একজনের মরদেহ থাকতে পারে—মডেল থানার এমন তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৮টা থেকে তল্লাশি শুরু করি। দুপুর দেড়টার দিকে পানির তলদেশ থেকে নৌকার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।'

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, 'ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।' মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মুকবুল কীভাবে নিখোঁজ হন এবং নৌকার সঙ্গে কীভাবে তাঁর মরদেহ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।