কাউখালীতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন ৫টি মন্দির

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সোনাকুড় এলাকায় সন্ধ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে শেষ রক্ষা হলো না প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী মন্দিরগুলোর। যে মন্দিরগুলো রক্ষায় গতকাল পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আজ তা স্রেফ স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে একে একে পাঁচটি মন্দির বিলীন হয়ে গেছে সন্ধ্যা নদীর গভীর গহ্বরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা লোকনাথ মন্দির, দুর্গা মন্দির, গঙ্গা মন্দির, কালী মন্দির ও শীতলা মন্দিরসহ মোট পাঁচটি মন্দির গতকাল রবিবার পর্যন্ত তীব্র ঝুঁকির মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল। গত রাতে এবং গতকাল সকালে নদী ভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মন্দিরগুলো একে একে নদীতে তলিয়ে যায়।

সামনে আগামী ২৮ আশ্বিন থেকে শুরু হতে যাওয়া শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে যেখানে উৎসবের প্রস্তুতি চলার কথা ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে কান্নার রোল ও বিষাদের ছায়া। ঐতিহ্যগতভাবে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই পাঁচটি মন্দিরে বছরজুড়ে ১২টি পূজার আয়োজন করতেন। সামনেই দুর্গোৎসব, কিন্তু পূজা আয়োজনের কেন্দ্রস্থল মন্দিরগুলোই এখন নদীর পেটে। এতে করে এবার কোথায় তারা পূজা উদযাপন করবেন— তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

গতকাল পিরোজপুর-২ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ শুরু করা এবং মন্দিরগুলো রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রাপ্ত এই আশ্বাসে আশায় বুক বেঁধেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু সব আশা ও আশ্বাস বিসর্জন দিয়ে রূপসী সন্ধ্যা নদী কেড়ে নিল তাঁদের প্রার্থনার স্থান ও শত বছরের স্মৃতিচিহ্ন।

গতকাল সরেজমিন নদী পাড়ে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

ভিটেমাটি ও আরাধনালয় হারানো মানুষগুলো নদীর তীরে ভিড় জমিয়েছেন। কেউ চুপচাপ ভাঙন দেখছেন, আবার কেউ বিষাদগ্রস্ত হয়ে কাদামাটিতে বসে হাউমাউ করে কাঁদছেন। একদিকে সামনে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে বসতবাড়ি হারিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁজার আকুল আকুতি।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, এই এলাকায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩০টিরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। নতুন করে অমল পাল, পরিমল পাল, রবি ভালো, বিপুল ভালো, সুমন ভালো, সজীব ভালো, রঞ্জিত ভালো ও রমেন পালের বসতঘরও নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার তীব্র হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে সহায়-সম্বল ও আরাধনার স্থান হারিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্যরা।

স্থানীয়দের দাবি শারদীয় দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকল্প কোন জায়গার ব্যবস্থা করা হবে কিনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পূর্ণবাসনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে কিনা এই বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বললেন আমি এখন এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। মন্ত্রীর কাছে কথা বলেন তিনি ভালো বলতে পারবেন। অপরদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং আসন্ন দুর্গাপূজার জন্য বিকল্প উপাসনালয় বা অস্থায়ী মণ্ডপ তৈরির জন্য সরকারি জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।